আমাদের ভারত, ১০ আগস্ট: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে অমিত শাহ, রাজনাথ সিং এবং জেপি নাড্ডার কাছে অভিযোগ জানিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এবার রাজ্য সভাপতি দেখা করলেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে। তার কাছে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নালিশ জানালেন। তুলে দিলেন একটি স্মারকলিপিও। অনুব্রত মণ্ডল সহ একাধিক ইস্যুতে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, এরপর আলিপুর জেলে মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। তার মতে এই সরকার ২০২৬ পর্যন্ত চলবে না। আর একে একে সব মন্ত্রীরা যদি জেলে যান তাহলে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজন পড়তে পারে।
রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া স্মারকলিপিতে যে বিষয়গুলি উল্লেখ করেছেন সুকান্ত মজুমদার তা হল, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠের বাড়ি থেকে বিপুল নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গরু পাচার মামলায় সিবিআই তলব করা সত্ত্বেও হাজির হচ্ছে না অনুব্রত মণ্ডল। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, পরেশ অধিকারী, শওকত মোল্লার মত তৃণমূলের একাধিক নেতা সিবিআইয়ের ঘেরাটোপে রয়েছেন। ১৯ জন শীর্ষ স্থানীয় তৃণমূল নেতার সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলায় ইডিকে পার্টির নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। শিক্ষাসংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের মাঝে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে বসতে চাইছেন। এই বিষয়গুলো উল্লেখ করে সুকান্ত মজুমদার রাষ্ট্রপতিকে এরাজ্যের পরিস্থিতির উপর নজর দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।
তাহলে কি তিনি রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানাচ্ছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে কিনা সেটা প্রশাসনিক ব্যাপার। কিন্তু এভাবে একের পর এক মন্ত্রী জেলে গেলে রাষ্ট্রপতি শাসনের প্রয়োজন তো পড়বেই। একসঙ্গে ১৯ জন নেতার সম্পত্তি সংক্রান্ত যে মামলায় ইডিকে পার্টি করতে বলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। সে প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সুকান্ত বলেন, এরপর রাজ্যের মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে জেলে। ওই মামলায় নাম রয়েছে ফিরহাদ হাকিম, অর্জুন সিং সহ শাসকদলের মোট ১৯ জন নেতার। তাদের সম্পত্তি কিভাবে ক্রমশ বাড়ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

