আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ১০ আগস্ট: ফের সিবিআই হাজিরা এড়ালেন অনুব্রত মণ্ডল। অসুস্থতার কারণ দেখিয়েই তিনি এদিনও হাজিরা এড়ালেন। তবে তাঁর অসুস্থতার সত্যতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এবার এই ঘটনায় নাম জড়াল বোলপুর সুপার
স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরও। সুপারের নির্দেশে এবং প্রশাসনের চাপেই অনুব্রত মণ্ডলকে ‘বেড রেস্ট’-এ থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের কাছে বিস্ফোরক দাবি করেছেন চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী। এমনকি হাসপাতালের সুপার বুদ্ধদেব মুর্মু তাঁকে অনুব্রতকে বাড়িতে দেখতে যাওয়া থেকে ‘সাদা কাগজে’ প্রেসক্রিপশন করার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওই চিকিৎসকের।
এদিকে, বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার বুদ্ধদেব মুর্মু শনিবার থেকে ছুটিতে রয়েছেন বলে দাবি জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি সুপার। ফলে ছুটিতে থাকাকালীন সুপার কি কোনও নির্দেশ দিতে পারেন, এমন প্রশ্নও উঠছে।
বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসক চন্দ্রনাথ অধিকারী অনুব্রত মণ্ডলের সুস্থতা নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, “অনুব্রত মণ্ডল সিবিআই দফতরে হাজিরা দেওয়ার মতো অবস্থায় রয়েছেন।” চাপে পড়েই তাঁকে ১৪ দিন বেড রেস্টে থাকার কথা সাদা কাগজে লিখে দিতে বাধ্য হয়েছেন।
কী চাপ? এই প্রসঙ্গে ডা: চন্দ্রনাথ অধিকারী বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার বুদ্ধদেব মুর্মু এবং প্রশাসনিক চাপের উল্লেখ করেছেন। ডা: চন্দ্রনাথ অধিকারী বলেন, “সুপার বুদ্ধদেব মুর্মু তাঁকে ফোন করে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে চেকআপ করতে বলেন এবং সাদা কাগজে প্রেসক্রিপশন লিখে দিতে বলেন।”
এরপর অনুব্রত মণ্ডলও তাঁকে বেড রেস্ট লিখে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন বলে এক সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন ডা: চন্দ্রনাথ অধিকারী। চিকিৎসকের কথায়, “আমি সরকারি কর্মচারি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কথা কি ফেলতে পারি? অনুব্রত তৃণমূল সভাপতি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তি। উনি বললেও কি না লিখতে পারি?”
এদিকে, বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি সুপার জানান, শনিবার থেকেই ছুটিতে রয়েছেন সুপার। ফলে ছুটিতে থাকাকালীন সুপার কী ভাবে অধস্তন কর্মীকে কোনও নির্দেশ দিতে পারেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও এব্যাপারে সুপার বুদ্ধদেব মুর্মু বা অনুব্রত মণ্ডলের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এদিন সিবিআইয়ের হাজিরা এড়িয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল।

