অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ২২ এপ্রিল: খোদ মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ফেরানো চলবে না। একবার নয়, বার বার এই নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু কে শোনে কার কথা? এবার সরকারের তরফে কড়া পদক্ষেপ নিতে চান চিকিৎসক-নেতা নির্মল মাজি।
রোগী ফেরানো রোধে বিজ্ঞপ্তি জারি করার পর প্রায় ৩ সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। সূত্রের খবর, তবু ১৩ টি হাসপাতালে ৭ শতাংশের বেশি রোগী অন্যত্র পাঠানো অর্থাৎ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশেষ সমীক্ষায় ধরা পড়েছে এই পরিসংখ্যান। এই পরিসংখ্যানকে মোটেই হালকা ভাবে নিচ্ছে না স্বাস্থ্য দফতর। কড়া নোটিশ পাঠানো হয়েছে নবান্ন থেকে। নোটিশ গুলি পাঠানো হয়েছে জেলার হাসপাতাল সুপার ও জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উলুবেড়িয়া উত্তরের বিধায়ক নির্মল মাজি এই প্রতিবেদককে বলেন, “এভাবে চলতে পারে না। চিকিৎসকদের কাজ করতে হবে। ফাঁকি দিয়ে পরিষেবার ব্যাঘাত ঘটানো চলবে না। দূর দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াবেন, এ কেমন কথা। আমরা ক’দিন ধরেই ক্রমাগত সবাইকে আবেদন ও সতর্ক করছি পরিষেবার সুস্থ পরিবেশ তৈরির জন্য।”
এদিনের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নির্মল মাজি। কমিটির আলোচনায় ঠিক করা হয়, অন্য হাসপাতাল বা সেই হাসপাতালের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা না বলে কোনওভাবেই রোগীর পরিবারকে রোগী স্থানান্তর করা যাবে না। সেই সঙ্গে কড়া ভাবে ঠিক হয়েছে, কেউ সরকারি নির্দেশিকা না মানলে তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কড়া ব্যবস্থা।
সূত্রের খবর, এদিনের আলোচনায় চিকিৎসকদের উপস্থিতি, হাসপাতালে থাকার সময়, প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সপ্তাহের মাঝখানে কেউ ছুটি নিতে পারবেন না ব্যক্তিগত প্র্যাক্টিসের জন্য। সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটে পর্যন্ত অবশ্যই থাকতে হবে হাসপাতালে। উপস্থিতি এবং থাকার সময়ের জন্য একইসঙ্গে খাতা এবং বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু রাখার ব্যবস্থা থাকবে। সেই সঙ্গে আরও একটি কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঠিক হয়েছে, উত্তরবঙ্গের চিকিৎসকদের ওপর রাখা হবে বিশেষ নজর।
রোগী ফেরানোর জন্য উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ হাসপাতাল, নৈহাটি মহকুমা হাসপাতাল, হাওড়ার বাউড়িয়ার ফোর্ট গ্লোস্টার স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, দক্ষিণ হাওড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, পানিহাটি মহকুমা হাসপাতাল, বিদ্যাসাগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল ও পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা হাসপাতাল, মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমা হাসপাতাল, বাঁকুড়ার খাতরা মহকুমা হাসপাতাল, নদিয়ার কৃষ্ণনগর জেলা হাসপাতাল, জলপাইগুড়ির মাল মহকুমা হাসপাতাল, কার্শিয়াং মহকুমা হাসপাতাল, কোচবিহারের মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে গিয়েছে নোটিশ।
প্রসঙ্গত, আগেই রাজ্যের পক্ষ থেকে হাসপাতাল গুলিকে জানানো হয়েছিল রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা করতে হবেই। একান্ত উপায় না থাকলে তবেই একমাত্র রোগী ফেরানো যাবে। যে হাসপাতালে রোগী পাঠানো হবে, সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রোগী স্থানান্তরের আগেই যোগাযোগ করে নিতে হবে।
উল্লেখ্য, বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে ঠিক হয়েছে কিছু নির্দেশিকা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য দফতরের সচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম, নির্দেশক অজয় চক্রবর্তী, বালি বিধানসভার বিধায়ক রাণা চট্টোপাধ্যায়, শ্রীরামপুর বিধানসভার বিধায়ক সুদীপ্ত রায় প্রমুখ।

