আজ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত পরিস্থিতি ঘোরালো হতে পারে, কাজ না থাকলে দয়া করে কেউ বাড়ির বাইরে যাবেন না, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য কর্তার

আমাদের ভারত, আলিপুরদুয়ার, ১৫মে: আগামী ১ মাস আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। ১৫ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংখ্যায় সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আমাদের কাছে সেরকমই তথ্য আছে। তাই, অনেক বেশি সচেতন হোক মানুষ। কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে এভাবেই নিজের উদ্বেগ প্রকাশ করলেন স্বাস্থ্য দফতরের উত্তরবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত ওএসডি সুশান্ত রায়।

শুক্রবার আলিপুরদুয়ারে জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্স কন্যাতে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনা, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা সহ বাকি স্বাস্থ্য কর্তা ও পুলিস প্রশাসনের আধিকারিকরা। জেলার কোভিড মোকাবিলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন সুশান্তবাবু। সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সুশান্ত রায় বলেন, “আগামী এক মাস কাজ না থাকলে কেউ দয়া করে বাড়ির বাইরে যাবেন না। দয়া করে সকলে মাস্ক পরুন।”

তবে, আলিপুরদুয়ারে এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি অন্যজায়গার তুলনায় অনেকটাই ভালো বলে জানান তিনি। জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মিনার নেতৃত্বে যথেষ্ট সক্রিয় প্রশাসন। তাই আজ পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে অক্সিজেনের কোনও সমস্যা, দেহ সৎকার, ওষুধ, হাসপাতালের বেড, টেস্ট নিয়ে বড় সমস্যা হয়নি। এর পরেই তিনি সতর্ক করে বলেন, তবে মানুষ যদি সহযোগিতা না করে আগামী এক মাসে পরিস্থিতি ঘোরালো হতে পারে। শুধু আলিপুরদুয়ার নয় গোটা উত্তরবঙ্গেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আমাদের কাছে তেমনই তথ্য রয়েছে।”

স্বাস্থ্য কর্তা বলেন, “আলিপুরদুয়ারে কোভিড রোগিদের জন্য ১৭৫টি বেড রয়েছে। যদিও সিংহভাগ ফাঁকা। জেলা হাসপাতালে ১০ দিনের মধ্যে অক্সিজেন উৎপাদন শুরু হবে। আশা করছি এক মাসের মধ্যে ডিআরডিএল ল্যাব তৈরি হবে জেলা হাসপাতালে। সেফ হোমকে পিটিটিআই করা হচ্ছে। অক্সিজেন, টেস্ট নিয়ে আলিপুরদুয়ারকে অন্যের মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না। তবে মানুষ যদি সচেতন না হয় সেক্ষেত্রে আমাদের যাবতীয় পরিশ্রম ব্যর্থ হবে। নির্বাচনের সময় মানুষ সচেতন ছিল না বলেই পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে বলে এদিন উল্লেখ করেন সুশান্ত রায়।

ভ্যাক্সিন নিয়ে সুশান্ত রায় বলেন, আমরা ভ্যাক্সিন চেয়েছি।দিল্লি থেকে যেভাবে যতটা পরিমাণ ভ্যাক্সিন আসবে তার উপরই নির্ভর করতে হয় আমাদের। তবে ভ্যাক্সিনের দ্বিতীয় ডোজ রয়েছে যাদের তাদের ভ্যাক্সিন দ্রুত দেবার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি তিনি এও বলেন,চা বাগানে ভ্যাক্সিন দেওয়া এবং টেস্ট নিয়ে প্রথম থেকেই কাজ হচ্ছে। গভীরভাবেই চা-বাগানের বিষয়টি দেখা হচ্ছে। এদিন স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ কার্যত হাতজোড় করে মানুষের কাছে মাস্ক পরা, অযথা বাড়ির বাইরে না যাবার আবেদন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *