আমাদের ভারত, ৩০ ডিসেম্বর: ওমিক্রনের সুনামি আসতে পারে। আর তাতেই গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে, এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু। দেশে প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা। অন্যদিকে দেশজুড়ে সার্বিক করোনা আক্রান্তের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ সহ আটটি রাজ্যকে নতুন করে সতর্ক করেছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব, দিল্লি, হরিয়ানা, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গকে সতর্ক করেছেন বিশেষ ভাবে। এই সবকটি রাজ্যকে প্রাথমিকভাবে কোভিড পরীক্ষা বাড়ানো, হাসপাতালগুলিকে তৈরি রাখা, টিকাকরণের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
কোভিড পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে খারাপ হতে পারে, সে কথা মাথায় রেখেই যে কোনো রকম পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। যেসব রাজ্যে দ্রুতগতিতে সংক্রমণ বাড়ছে সেই রাজ্যগুলিকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ১৭৭ দিন পর গতকাল পশ্চিমবঙ্গে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে ১১ জন ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানা গেছে।
রাজ্যবাসীকে সতর্ক হওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও। এখনই লকডাউনের সিদ্ধান্ত না নিলেও অবিলম্বে বাংলায় বিদেশ থেকে আসা বিমান ওঠানামা বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। রাজ্যের তরফে জেলাগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। কোভিড পরীক্ষার হার বাড়াতে বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তাদের আশঙ্কা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ দ্বিগুণ হতে পারে। ৩০-৩৫ হাজার মানুষ দৈনিক সংক্রমিত হতে পারেন। এটাকেই তৃতীয় ঢেউ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। দিল্লি ও মহারাষ্ট্রেও রকেট গতিতে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন মুম্বাই, দিল্লির পরিস্থিতি তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

