আমাদের ভারত, ২৮ আগস্ট: কোভিডে আক্রান্তের সংখ্যা ফের ঊর্ধ্বমুখী। দেশে ফের ৮৬ হাজারের ওপরে গেল দৈনিক কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়েছে কেরলে, তার পরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র। তবে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি টিকা করণেও জোর দিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক। একদিনে এক কোটি টিকাকরণের রেকর্ড করল দেশ।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬ হাজার ৭৫৯ জন, যা আগের দিনের তুলনায় দুই হাজারের বেশি। আক্রান্তের সিংহভাগই কেরলে। একদিনে সেখানে ৩২ হাজার ৮০১ জন সংক্রমিত হয়েছেন। কেরলের পরেই রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে সংক্রমিতের সংখ্যা ৪ হাজার ৬৫৪, যা সে রাজ্যের পূর্বের সংক্রমণের চেয়ে তুলনামূলক কম। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে সেই সংখ্যা ৭০৩। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে থেকে ক্রমাগত কমতে থাকা সংখ্যা আবার ২৬ আগস্টের পর থেকে বাড়তে শুরু করেছে এ রাজ্যে।
শনিবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া পরিসংখ্যান বলছে, দেশে এখনও পর্যন্ত মোট ৩ কোটি ২৬ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। একদিনে ১৪ হাজার ৮৭৬ জন বেড়ে গিয়ে মোট চিকিৎসাধীনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৭৫ জন। একদিনে মৃত্যু হয়েছে ৫০৯ জনের। এখনও পর্যন্ত কোভিডে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ৪ লক্ষ ৩৭ হাজার ৩৭০ জন।
দেশে তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা এখনও কাটেনি তার মধ্যেই সংক্রামিতের সংখ্যা ফের যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী, তাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের নাগরিকদের আরও বেশি সচেতন হবার কথা বলছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে টিকাকরণে জোর দিয়েছে কেন্দ্র।
করোনার এই আবহেও টিকাকরণে রেকর্ড গড়ল দেশ। গতকাল এক দিনে ১ কোটি ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৯০টি ডোজ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যান সূত্রে জানা গেছে। ভারতের এই রেকর্ডের প্রশংসা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। বিশ্বের দ্বিতীয় জনবহুল দেশে টিকাকরণ নিয়ে নানান সমস্যার মাঝেই মোট ৬১ কোটি ২৯ লক্ষ ৮৯ হাজার ১৩৪ ডোজ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত চলছে নমুনা পরীক্ষা। গত ২৪ ঘন্টায় ১৭ লক্ষ ৬১ হাজার ১১০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই বর্তমানে কোভিড বিধিতে শিথিলতা আনা হয়েছে। ১২ টি রাজ্যে স্কুল খোলা হয়েছে, কিছু রাজ্য আগামী মাসেই স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে স্কুল খোলা নিয়ে দোটানায় রয়েছে বেশির ভাগ রাজ্যই। একদিকে যেমন স্কুল বন্ধ থাকার ফলে ছেলে মেয়েদের শিক্ষা ক্ষেত্রে ক্ষতি হচ্ছে বিপুল, তেমনই স্বাস্থ্যের বিষয়কেও অবজ্ঞা করতে রাজি নয়। আবার এক্ষেত্রে কেরালার পরিস্থিতিকেও নজরে রেখে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মূলত প্রথম ঢেউয়ে কোভিড মোকাবিলায় সফল হলেও দ্বিতীয় ঢেউয়ে কেরালা যেভাবে বিপর্যস্ত তা একপ্রকার উদাহরণ তৈরী করেছে অন্য রাজ্যগুলোর জন্য। তার পরও সচেতনতার অভাবে গত দেড় মাস ধরে ক্রমশ সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে সেখানে। এই পরিস্থিতি দ্রুত বেহাল হচ্ছে ওনাম উদ্যাপনের পর থেকে।
তাই সংক্রমণের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে যেখানে বিভিন্ন রাজ্য স্কুল খুলেছে, পশ্চিমবঙ্গ সেখানে এই সিদ্ধান্ত নিতে দূর্গাপুজো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়। এরাজ্যেও সংক্রমণের সংখ্য বদলাচ্ছে প্রতিদিন। এমনিতেই কোভিড বিধি শিথিল, তার মধ্যে বাঙালির শ্রেষ্ঠ পুজোর উচ্ছ্বাস ও আবেগ কোভিড পরিস্থিতিকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যায় সে দিকে লক্ষ্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে চায় রাজ্য বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান।

