রাজেন রায়, কলকাতা, ১৩ মার্চ: ফের পুলিশি জুলুমের শিকার ট্রাক ড্রাইভার। পুলিশের দাবি মত টাকা দিতে না পারায় ওই ড্রাইভারকে নৃশংস ভাবে মারল পুলিশ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্তাক্ত ড্রাইভারকে চিকিৎসা করান মালিক রাজেশ শা। এই ঘটনায় ওই পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানাতে।
ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চসায়র এলাকার বুধের হাটিতে। লরি চালক রমেশ শা তার বালির লরি খালি করতে গিয়েছিল, ওই এলাকার চিংড়ি কারখানাতে। অভিযোগ সেই সময়, পুলিশ তার গাড়ি আটকায় এবং দু হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করে রমেশ। তখন ওই দুই পুলিশ কর্মী ওখান থেকে চলে যায়।
রাত আটটা নাগাদ যখন বালির লরি খালি করে ওই চালক লরি নিয়ে ফিরছিল। তখন আবার লরি আটকে ধরে ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ কর্মী। তারা আবার টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। গরিব লরি চালকের কাছে ওই টাকা ছিল না। অবশেষে এক হাজার টাকা দিতেই হবে বলে দাবি করে পুলিশ। টাকা না দিতে পারায় ওই লরি চালককে বেধড়ক মারধর শুরু করে পঞ্চসার থানার ওই পুলিশ কর্মীরা। পুলিশের মারে হাত কেটে রক্ত বের হতে থাকে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার সন্দেহ করে, ডান হাতের হাড়ে চিড় ধরেছে।
এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ পশ্চিম বঙ্গ ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। তারা পঞ্চসায়র থানাতে গিয়ে রাতের টহলরত ওই সমস্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। রমেশ উল্লেখ করে, রাতে যে সমস্ত পুলিশ কর্মীরা তাকে মারধর করেছিল। তারা প্রত্যেকেই প্রচন্ড পরিমাণে মদ্যপ ছিলেন। মালবাহী গাড়ির ওপর পুলিশি জুলুম রীতিমতো বাড়ছে। আর সেই জুলুমের পরিমাণ এতটাই সীমা ছাড়াচ্ছে যে, লরির মালিক থেকে ড্রাইভার সবাই হিমশিম খাচ্ছে। পুলিশের ওই জুলুমের টাকা চাপছে, পরিবহন হওয়া মালপত্রের ওপর। আর সেই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে মালপত্র কিনছেন সাধারণ মানুষ।
যদিও এই বিষয় নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

