BJP, Muharram, Rampurhat, রামপুরহাটে বিজেপি কর্মীর হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে মহরমের তাজিয়া

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৫ জুন: নিজে কুলীন ব্রাহ্মণ। তারপরে আবার বিজেপির সক্রিয় কর্মী। তাঁর হাতেই গড়ে উঠছে সাড়ে ন’ফুটের তাজিয়া। শুক্রবার সেই তাজিয়াই প্রদর্শিত হবে রামপুরহাট শহরে। বিজেপি কর্মী চঞ্চল মুখোপাধ্যায়ের দাবি শিল্পীর কোনো ধর্ম হয় না।

রামপুরহাট শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সানঘাটা পাড়ার বাসিন্দা। নিজে একজন অঙ্কন শিল্পী। তবে দেওয়াল লিখনের বাইরেও তাঁর নিজের ভাবনা রামপুরহাট শহরে সামাজিক সচেতনতা হিসাবে কাজে এসেছে। পুরস্কৃত করেছে রামপুরহাট পুরসভা, প্রশংসা করেছেন মহকুমা পুলিশ প্রশাসন।

দিন কয়েক ধরে মহরমের শোভাযাত্রার তাজিয়া বানাচ্ছেন তিনি। রামপুরহাট পুরসভার লেটপাড়া মহরম কমিটির তাজিয়ায় তাঁর হাতের শিল্পের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে। যখন নিজেদের বিজেপি বলতে ভয় করতেন অনেকে, সেই সময় বুক চিতিয়ে দলের কাজ করে গিয়েছেন চঞ্চল মুখোপাধ্যায়। সেই সময় ছিলেন দলের রামপুরহাট শহর সভাপতি। বর্তমান কৃষিমন্ত্রী দুধ কুমার মণ্ডল অনুগামী হওয়ায় তাকে দলের কোনো পদ দেওয়া হয়নি বলে আক্ষেপ। তবে দলের হয়ে কাজ করতে ভোলেননি তিনি। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রামপুরহাটে ধ্রুব সাহা এবং ময়ূরেশ্বর বিধানসভায় দুধকুমার মণ্ডলের হয়ে প্রচার করেছেন। একটি কট্টর হিন্দু প্রধান দলে থেকেও ভিন সম্প্রদায়ের তাজিয়া বানাতে হাত কাঁপেনি তাঁর।

চঞ্চলবাবু বলেন, “শিল্পীর কোনো ধর্ম হয় না। তাছাড়া পাড়ার ছেলেদের আবদারে তাজিয়া বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি”।

শুধু তাজিয়া নয়, করোনা আবহে দুর্গাপুজোর সময় বিশালাকৃতি মহিষাসুর বানিয়ে তাক লাগিয়েছিলেন। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেই মহিশাসূর বানিয়ে রামপুরহাট পুরসভার কাছ থেকে পুরস্কৃত হয়েছিলেন তিনি।

পুলিশ প্রশাসনের ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচি গ্রহণ করার অনেক আগে নিজের খরচে রাস্তার ধারে বানিয়ে ফেলেছিলেন দুর্ঘটনার স্ট্যাচু। সেখানে একটি রাজদূত গাড়িতে বিনা হেলেমেটে থাকা যুবকের কিভাবে প্রাণ গিয়েছিল সেই ছবি ফুটিয়ে তুলেছিলেন। এমন সচেতনতস মূলক স্ট্যাচু দেখে অফিসে ডেকে শিল্পসত্ত্বার প্রশংসা করেছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক মৃণাল মজুমদার।

চঞ্চলবাবু বলেন, “আমি প্রথম থেকেই বিজেপির সঙ্গে আছি। ভবিষ্যতেও থাকব। বিজেপির কাছে হিন্দু- মুসলিম আলাদা নয়। আমরা একে অপরের উৎসবে অংশগ্রহণ করে থাকি। তাছাড়া আমি একজন শিল্পী। তাই ধর্ম না দেখে তাজিয়া বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে দলের কেউ বিরোধিতা করেনি। আগামী দিনেও অন্য কোনো কমিটি তাজিয়া বানানোর ডাক পেলে সম্মতি জানাব”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *