আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ২৫ জুন; এবার পদত্যাগ করলেন বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহুয়া সাহা। একই সঙ্গে সহ সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন প্রশান্ত কুমার লেট। দু’জনেই রামপুরহাট মহকুমা শাসকের হাতে তাদের পদত্যাগ পত্র তুলে দেন। এক সঙ্গে সভাপতি এবং সহ সভাপতি পদত্যাগ করায় পঞ্চায়েত সমিতির সমস্ত কমিটি ভেঙে গেল।
২৭ আসনের বীরভূমের রামপুরহাট ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির আসন সংখ্যা ৬, সিপিএম ১ এবং তৃণমূল ২০টি। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছে। পরাজিত হয়েছেন প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার, রামপুরহাট বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই তৃণমূলের ক্ষমতায় থাকা দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া, সিউড়ি, বোলপুর পুরসভার পুরপ্রধানরা পদত্যাগ করেন। কিন্তু রামপুরহাট পুরসভা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। এনিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পদত্যাগী রামপুরহাট ১নং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহুয়া সাহা বলেন, “আমি একজন শিক্ষিকা। দীর্ঘদিন ছুটি নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতিতে ছিলাম। এখন পুনরায় কাজে ফিরতে চাই। তাই সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করলাম। দলের কোনো পদাধিকারী এই মুহূর্তে নেই, তাই দলীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়নি। তবে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের জানানো হয়েছে।”
সহ সভাপতি প্রশান্ত কুমার লেট বলেন, “আমি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। তাই পঞ্চায়েত সমিতিতে সময় দিতে পারছিলাম না। অসুস্থতার কারণেই পদত্যাগ করলাম। বিষয়টি আমরা ১৮ জুন সমস্ত সদস্যদের ডেকে জানিয়ে দিয়েছিলাম”।
পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা অষ্টম মণ্ডল বলেন, “ওরা এতদিন মানুষের উপর অত্যাচার চালিয়ে এসেছে। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতিতে ডুবে গিয়েছে। কিন্তু আমাদের সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সেই কারণে সভাপতি ও সহ সভাপতি পদত্যাগ করেছে। আমরা দুর্নীতির তদন্ত করার আবেদন জানাব প্রশাসনের কাছে”।

