আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৯ আগস্ট: “আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মহত্যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তার মানে এই নয় যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে তদন্ত চলছে তা আমরা থামাবো। তারাপীঠ- রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ নিয়ে তদন্ত হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে,”
শনিবার বীরভূমের রামপুরহাটে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
সভা শেষে বিকেলে তিনি যান প্রয়াত ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধায়ের বাড়িতে। সেখানে আশিসবাবুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। পাশে থাকার আশ্বাস দেন। সেই সঙ্গে পরিবার চাইলে তদন্তের আশ্বাস দেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পরিবারের সদস্যরা আমাকে বলেছেন, “প্রশাসন কিংবা বিজেপির কেউ তাঁকে উত্যক্ত করেননি। নিজেরাই মৃত্যুর কারণ জানেন না। বিরাট রহস্য রয়েছে। যে ধ্রুব সাহা উনাকে হারিয়েছেন তিনি এসে আশিসবাবুকে প্রণাম করে গিয়েছেন। এখানকার বিজেপির লোকজন উনাকে সম্মান দিতেন।

উনার স্ত্রী বলেছেন, আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। শুধু আপনি পাশে থাকুন তাহলেই হবে। আমি উনাদের নম্বর দিয়ে এসেছি। প্রয়োজনে ফোন করতে বলাছি। উনাকে ফিরিয়ে দিতে পারব না। কিন্তু দাদাকে বলেছি দায়িত্ব নিয়ে দেখবেন। বৌদি আমার উপর ভরসা রেখেছেন। আশিসবাবু কৃষিমন্ত্রী থাকাকালীন একটা অনুষ্ঠানে কালী মূর্তি উপহার দিয়েছিলাম। আমার সৌভাগ্য ওই মূর্তি এই বাড়িতে এখনও পুজিত হচ্ছে।”
প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে শতদল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী এসছিলেন, আমরা তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। যা বলার উনাকে বলেছি। এনিয়ে সংবাদ মাধ্যমকে কিছু বলব না।”
এদিন আশিসবাবুর বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন বীরভূমের সাংসদ শতাব্দী রায়, বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল। শতাব্দী বলেন, “পরিবার কোনো দাবি রাখেননি। শুধুমাত্র জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী আসায় তাঁরা কৃতজ্ঞ। তাঁরা কোনো নিরাপত্তা চান না।” বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তারাপীঠ- রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদকে পাঁচ কোটি টাকা দেওয়া হলো। টাকার কোনো অভাব হবে না। কৌশিকী অমাবস্যা ভালোভাবে পালন করতে হবে। হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পস্তবক ছড়ানো হবে। সেই সঙ্গে জেলা শাসককে বলেছি তারাপীঠে একটি বড় আকারে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে সমস্ত শ্রেণির মানুষ পুজো দিতে এসে থাকতে পারবেন। তারাপীঠের উন্নয়নে আমাদের অনেক ভাবনা রয়েছে।

