কালিয়াগঞ্জে মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের মর্মান্তিক পরিণতির ঘটনার তদন্তে গিয়ে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ল সিআইডি’র তদন্তকারী অফিসাররা

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২ জুন: কালিয়াগঞ্জে মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে গিয়ে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের মুখে পড়ল সিআইডি’র তদন্তকারী অফিসাররা৷ ঘটনার তদন্ত ও সিআইডির কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলে গ্রামবাসীরা। তবে এখনও সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছে মৃত্যুঞ্জয়ের পরিবার৷

উল্লেখ্য, চাঞ্চল্যকর ও রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় করা এই খুনের ঘটনার তদন্ত করতে শুক্রবার পুনরায় কালিয়াগঞ্জের রাধিকাপুরের চাঁদগা’য় নিহত মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের বাড়িতে যায় আইডি আধিকারিকরা৷ সেই সময়ই সিআইডি আধিকারিকদের তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা৷ সিআইডি আধিকারিকদের এদিন গ্রামবাসীরা সরাসরি প্রশ্ন করেন, এই মামলায় যে দোষী তাকে এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়নি কেন? এমনকি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং যেখানে বলছেন এই ঘটনার নেপথ্যে বিএসএফ রয়েছে সেখানে আপনাদের ওপর কিভাবে ভরসা পাব তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন গ্রামবাসীরা৷ এই খুনের ঘটনার গতিপ্রকৃতি এবং সিআইডি কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলে গ্রামবাসীরা তদন্তকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, খুনের ঘটনা ঘটলে আগে অভিযুক্তকে জেলে পুরতে হয়। তারপরেই তদন্ত শুরু হয়। অবিলম্বে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি তোলেন গ্রামবাসীরা।

গ্রামবাসীদের ক্ষোভ বিক্ষোভের মধ্যে সিআইডির তদন্তকারীরা মূলত এই ঘটনায় মৃত মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের বাবা রবীন্দ্রনাথ বর্মন ও স্ত্রী গৌরী বর্মনের বয়ান রেকর্ড করেন। তবে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় এখনও সিবিআই তদন্তের দাবিতে অনড় রয়েছে নিহত মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের পরিবার। তার বাবা রবীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, পুলিশই আমার ছেলেকে মেরেছে। সিআইডি তদন্তে আমাদের কোনো আস্থা নেই। কারণ যাদের বয়ান নেওয়া হচ্ছে সাক্ষী হিসেবে ঘটনার সময় তারা কেউই উপস্থিত ছিল না। ফলে সিআইডির ওপর কী করে ভরসা থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রবীন্দ্রনাথবাবু৷ তিনি বলেন, অবিলম্বে ছেলের হত্যা মামলায় সিবিআই তদন্ত হোক।

অন্যদিকে, সিআইডি’র তদন্তকারী আধিকারিকরা এদিন বলেন, বিক্ষোভের মতন কোনো ঘটনা
ঘটেনি। গ্রামবাসীরা তাদের বক্তব্য জানাচ্ছিলেন। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, গত ২১শে এপ্রিল কালিয়াগঞ্জের সাহেবঘাটা সংলগ্ন পালোইবাড়ি এলাকার একটি পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার হয় এক নাবালিকার মৃতদেহ৷ ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ঘিরে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয় সাহেবঘাটা এলাকা। মৃত নাবালিকার দেহ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ায় রাজ্য জুড়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ো পুলিশ। ভাঙ্গচুর ও থানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। আক্রান্ত হয় পুলিশ৷ পরবর্তীতে চাঁদগা গ্রামে তল্লাশি অভিযানে গেলে রাজবংশী যুবক মৃত্যুঞ্জয় বর্মনকে গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তবে
হাইকোর্টের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। এই হত্যা মামলায় পরবর্তীতে কী হয় এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *