ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া নলহাটির গৃহবধূ জেলা পুলিশ সুপারের তৎপরতায় মুম্বাই থেকে উদ্ধার

নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম, ১ জুলাই: ফেসবুকে গৃহবধূর সঙ্গে পরিচয় নেপালের এক যুবকের। এরপরেই গৃহবধূকে ফুসলিয়ে ওই যুবক গা ঢাকা দেয় মুম্বাই হয়ে গুজরাটের সুরাটের একটি বস্তিতে। সেখান থেকেই মোবাইলে ছয় লক্ষ টাকা মুক্তিপণের দাবি করে মেয়ের পরিবারের কাছে। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপারের তৎপরতায় মোবাইলের সূত্র ধরে গৃহবধূকে উদ্ধার করল বীরভূমের নলহাটি থানার পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে অপহরণকারী যুবককে। তবে ওই যুবক গুজরাটের সুরাট আদালতে জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়।

জানা গিয়েছে, বীরভূমের নলহাটি থানার পাইকপাড়া গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় নেপালের জলেশ্বর থানার হালখোরি গ্রামের যুবক রাকেশ কুমার পাণ্ডের। ফেসবুকেই তাদের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে বছর দেড়েক আগে একই থানার লোহাপুর সংলগ্ন বারা গ্রামে তরুণীর বিয়ে হয় এক কৃষক পরিবারে। বিয়ের পরও ফেসবুকের বন্ধুর সঙ্গে ভালবাসার সম্পর্ক বজায় রেখেছিল গৃহবধূ। নেপালের যুবক নিজেকে একটি হোটেলের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে আদতে সে হোটেলের সাফাই কর্মী।

চলতি বছরের মে মাসে গৃহবধূ শ্বশুর বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে আসে। ২৩ মে সকালে নলহাটিতে বাজার করতে যাওয়ার নাম করে ওই গৃহবধূ বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে নলহাটি থানায় নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করে। মাসখানেক পর ওই যুবক গৃহবধূর পরিবারকে ফোনে জানায় ছয় লক্ষ টাকা মুক্তিপণ না দিলে তাদের মেয়েকে বিক্রি করে দেবে। এই ফোন পেয়ে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা মোবাইলের ভয়েস রেকর্ড সহ নম্বর পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

এরপরেই জেলা পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীর নির্দেশে মোবাইলের সূত্র ধরে নলহাটি থানার পুলিশ বিমানে পাড়ি দেয়। এরপর গুজরাটের শচিন পুলিশ ষ্টেশন এলাকার একটি বস্তি থেকে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে। অভিযুক্ত যুবককে গুজরাটের সুরাট আদালতে তোলা হলে সে জামিনে মুক্তি পেয়ে যায়। ফলে যুবককে সুরাট থেকে আনা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার গৃহবধূকে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে অতিরিক্ত মুখ্য দায়রা বিচারক পরাগ নিয়োগী তাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানান সরকারি আইনজীবী সুরজিৎ সিনহা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *