“ভালো শিক্ষিকা ছিল,“ পরেশকন্যার প্রশংসা করে নেটানাগরিকদের তোপের মুখে প্রধান শিক্ষিকা

অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ২১ মে: চাকরি খোয়ানো অঙ্কিতাকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়ে নেটানাগরিকদের তোপের মুখে পড়লেন তাঁর স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রঞ্জনা রায় বসুনিয়া।

স্কুল সার্ভিস কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার শুনানি চলাকালীন শুক্রবার বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এক বড় রায় ঘোষণা করেন। বেআইনিভাবে চাকরিতে ঢোকার অভিযোগে এদিন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী পরেশ অধিকারীর কন্যা অঙ্কিতাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। এছাড়াও তাঁকে বেতন ফেরত দেওয়ার ঘোষণা করেন অভিজিৎবাবু। হাইকোর্টের এই রায় নিয়ে যখন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছেল বঙ্গ রাজনীতি, সেই সময় এক অবাক করা মন্তব্য করে বসলেন ইন্দিরা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা।

একটি সংবাদমাধ্যমে খবরটি আসার ১৪ ঘন্টা বাদে শনিবার বেলা পৌনে বারোটায় লাইক, মন্তব্য ও শেয়ারের সংখ্যা হয়েছে যথাক্রমে ৪ হাজার ৩০০, ১ হাজার ৫০০ ও ৯৫।

সুমিতা কর্মকার লিখেছেন, “ভালো শিক্ষিকা যখন তবে বেআইনি ভাবে ঢুকলো কেন?“ শান্তনু রায় লিখেছেন, “একজন চোরের হয়ে সাফাই দিচ্ছেন একজন চোরনি।“

সৌরভ মন্ডল লিখেছেন, “এও মনে হয় পিছন থেকে হেড মাস্টার হয়েছে।“ পার্থ শর্মা সরকার লিখেছেন, “২০১৯ এর প্রধান শিক্ষক নিয়োগের এসএসসি-তে ঘাপলা ছিল, মনে হয় ‘১৯ এর প্রধান শিক্ষিকা।“ সুব্রতা দাস লিখেছেন, “হয় আপনি ভীত নচেৎ বিবেচকহীনা।“ সুজাতা দাস লিখেছেন, “এর থেকেও যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক বা শিক্ষিকারা অপেক্ষা করে আছে।“

বুদ্ধদেব মল্লিক লিখেছেন, “এবার ওনার নিয়োগ খতিয়ে দেখা হোক।“ শক্তিপদ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, “চটির অনুপ্রেরণায় নয়তো?“ অপূর্ব ভুঁইয়া লিখেছেন, “ওটাও ঘাবলা কেসের শিক্ষিকা।“ সুবীর দাস লিখেছেন, “ভালো শিক্ষিকা হতেই পারেন। কিন্ত যে শিক্ষীকা দেশের আইন, নিয়ম তোয়াক্কা করেন না। তিনি সীমিত সময়ের জন্য ভালো হতে পারেন। কিন্ত যে শিক্ষা ছাত্র ছাত্রীদের দেবেন। সেই মানুষ গুলো ভুল শিক্ষা পেয়ে দেশের জন্য ভয়ঙ্কর নাগরিক হবে।”
রজত ব্যানার্জী লিখেছেন, “যে নিজেই দুর্নীতিগ্ৰস্থ, সে কী নীতিশিক্ষা দিবে, এদের আবার দরাজ সার্টিফিকেট দেয়, যতসব মেরুদন্ডহীন প্রাণী।“

আল মেহবুব লিখেছেন, “আহারে নির্লজ্জ! সুবিধাবাদী ! খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না! ভালো শিক্ষক বা শিক্ষিকার সংজ্ঞাটা আপনি জানেন কী? একজন দূর্নীতিবাজ অসৎ শিক্ষিকা আপনার দৃষ্টিতে ভালো হওয়ার কারণ বা রহস্য কী? আর যে প্রকৃত মেধাতালিকা ভূক্ত চাকুরী প্রার্থী ববিতা এতোদিন ধরে বঞ্চিত হলো, সেক্ষেত্রে আপনার কোনো মন্তব্য বা দরদ কিছুই নেই! অঙ্কিতা চুরি করে চাকুরী পেয়েছে, আদালতে তা প্রমাণিত হলো। এক্ষেত্রে আপনার উচিৎ ছিলো ওই চোর শিক্ষিকাকে ধিক্কার জানানো! কিন্তু তা না করে পদের অমর্যাদা করে সাফাই গাইতে শুরু করছেন! আপনিও যে অযোগ্য তা নিজেই প্রমান করলেন! অতএব আপনি (রঞ্জনা রায় বসুনিয়া) প্রধান শিক্ষকের পদ কীভাবে পেয়েছেন তা হয়তো দ্রুত খতিয়ে দেখবে মহামান্য বিচারক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *