অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১৯ মে: রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সিবিআই দফতরে হাজিরা দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে। বুধবার সিবিআই গোয়েন্দাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে নিজাম প্যালেসে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার অফিসে পৌঁছে যান পার্থবাবু। এদিকে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বিক্ষুব্ধ চাকরি প্রার্থীরা। মোটের উপর এসএসসি যে ঘুঘুর বাসা, এমন অভিযোগ এখন বার বার উঠে আসছে। এই পরিস্থিতিতে আইএএস শুভ্র চক্রবর্তীতে এসএসসির চেয়ারম্যান পদে নিয়ে আসা, রাজ্য সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে শিক্ষা মহল। সব মিলিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন খ্যাতিসম্পন্ন প্রবীন শিক্ষাবিদ ডঃ নিখিল রঞ্জন ব্যানার্জি।
‘দি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইঞ্জিনিয়ার্স, ইন্ডিয়া’র সভাপতি, ‘ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন’-এর রাজ্য চেয়ারম্যান, জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা শিবপুরের ‘বেসু‘-র প্রাক্তন উপাচার্য, ‘ন্যাশনাল বোর্ড ফর অ্যাক্রডিটেশন’-এর বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান নিখিলবাবু এই প্রতিবেদককে জানান, “১৯৯৭ সালে রাজ্য সরকার বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনা ও নির্বাচন প্রক্রিয়া বিজ্ঞান ভিত্তিক করার জন্য যাথে প্রার্থীদের প্রতি সুবিচার করা যায়, তার ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তৈরি হয় এসএসসি। মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ১৯৭৯ সালে তৈরি হয় কলেজ সার্ভিস কমিশন। কিন্তু রাজ্য সরকার স্বচ্ছতা ও নীতি নিষ্ঠার অবসান ঘটিয়ে দুর্নীতিকে আলিঙ্গন করলেন। আমি রাজ্যের দু’জন শিক্ষামন্ত্রীর সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেয়েছি। তাঁরা উভয়েই প্রয়াত। শিক্ষক নির্বাচনের ব্যাপারে, তা যে কোনও মহাবিদ্যালয়ে হোক, নীতিভ্রষ্ট হতে দেখিনি। এই অনৈতিক ও ঘৃণ্য কাজ তাঁদের দেখে যেতে হয়নি। তবে বিচারের বাণী সব সময় নীরবে নিভৃতে কাঁদে না। কলকাতার উচ্চ ন্যায়ালয়ের ন্যায়াধীশকে শ্রদ্ধা জানাই তাঁর ঐতিহাসিক রায়ের জন্য। মনে পড়ে গেল আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার কথা। দুর্নীতিগ্রস্তদের ভাবীকাল ক্ষমা করবে না।”
প্রসঙ্গত, মেয়ের চাকরি-সহ তিন শর্তে ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন পরেশ অধিকারী। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এমনটাই দাবি করেছেন। পরেশবাবু যখন তৃণমূলে যোগ দেন, সেই সময় শুভেন্দুবাবুও ওই দলে। সেই সুবাদেই তিনি এ কথা জেনেছিলেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দুবাবু।

