রাজেন রায়, কলকাতা, ১৯ জুন: এভাবেও যে কেউ বোকা বানাতে পারে তা ভাবতে পারেননি রেল কর্তৃপক্ষ। কখনও কখনও বাবাকে মৃত ঘোষণা করে তার নামে জালিয়াতি করতে দেখা যায় ছেলেকে। কিন্তু রেলের ক্ষতিপূরণ এবং রেলের চাকরির লোভে নিজের জীবিত ছেলে অমৃতাভ’কে মৃত বলে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন বাবা মিহির চৌধুরী।
ডেথ সার্টিফিকেট এর পাশাপাশি ডিএনএ স্যাম্পল দিয়ে সাক্ষী দিয়েছিলেন তিনি। পরিবর্তে মেলে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং রেলের সিগন্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে অমৃতাভ এর বোন মহুয়ার চাকরি।
কিন্তু সম্প্রতি কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পান রেলের অফিসাররা। আর তাতেই প্রমাণ হয়ে যায় আদৌ মারা যাননি অমৃতাভ। সেই তথ্য দিয়ে তারা অভিযোগ দায়ের করেন সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখায়। গত ১৫ জুন গোটা বিষয়টি উল্লেখ করে সিবিআই-এ অভিযোগ দায়ের করেন দক্ষিণ পূর্ব রেলের ভিজিল্যান্স বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার৷ আর তারপরেই শুক্রবার রাতে জোড়াবাগানের গঙ্গানারায়ণ লেনে হানা দিয়ে বাবা ছেলে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিবিআই। যদিও জেরায় অমৃতাভর দাবি, সে অমৃতাভ নয়৷ তবে সিবিআই সূত্রে খবর, নিজের ছেলের পরিচয় স্বীকার করে নিয়েছেন অভিযুক্তের বাবা৷ অমৃতাভর বোন মহুয়া পাঠককে সাসপেন্ড করেছে রেল৷ অভিযুক্তের তালিকায় অমৃতাভর মা, বোন ছাড়াও অজ্ঞাতপরিচয় সরকারি কর্মীদের নাম রয়েছে৷
২০১০ সালের ২৮ মে পশ্চিম মেদিনীপুরের সরডিহার কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস৷ মুম্বাইগামী ট্রেনটি গভীর রাতে লাইনচ্যুত হওয়ার পর সেটিতে ধাক্কা মারে উল্টোদিক থেকে আসা একটি মালগাড়ি৷ ঘটনায় প্রায় ১৪১ যাত্রীর মৃত্যু হয়৷ সিবিআই সূত্রে খবর, ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন অমৃতাভ৷ ঘটনার পর তিনি মৃত বলে দাবি করে তাঁর পরিবার৷ তখন বুঝতে না পারলেও ১১ বছর পরে সামনে এল আসল তথ্য।

