আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৭ এপ্রিল: নবম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে অত্যাচার। আর তারপর লাগাতার ব্ল্যাকমেইল। আর এর জেরে মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী হয় ওই ছাত্রী। ঘটনাটি বারাসতের। ঘটনার ২৬ দিন পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হল নির্যাতিতার পরিবার। বুধবার ওই কিশোরীর পরিবার জেলা পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ, বারাসত থানা প্রথম থেকেই অভিযুক্তের পক্ষ নিয়েছে। সালিশি করে বিষয়টি মিটিয়ে নিতে বলছে। তাই সে আত্মঘাতী হতে বাধ্য হয়েছে। পুলিশের তরফে অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসতের উত্তর কাজিপাড়ার সিথিবড়া এলাকার মামার বাড়িতে থাকত ওই কিশোরী। নবম শ্রেণিতে পড়া ওই ছাত্রীর সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, কয়েক দিন আগে ওই যুবক তাকে অপহরণ করে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর সারা দিন তার উপর শারিরীক ও মানসিক অত্যাচার করে বলে অভিযোগ। পরিবারের তরফে থানায় জানানো হলে মিমাংসা করে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর স্থানীয় এক বাহুবলির নেতৃত্বে মিমাংসা করা হয়। সেখানে বলা হয়, মেয়ে সাবালক হলে ওই যুবক তাকে বিয়ে করবে। কিন্তু তারপরও লাগাতার ব্ল্যাক মেইল করায় গত ৪ এপ্রিল ভোরে ওই নাবালিকা আত্মঘাতী হয়। পরিবারের অভিযোগ, থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে ওই নাবালিকার মামা বলেন, প্রথম রোজার আগের দিন ভাগ্নি ভোরে ডেকে দিতে বলেছিল। সেও রোজা করবে বলেছিল। কিন্তু ওইদিন ভোরে ওর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এলাকার এক যুবক জোর করে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করে। পুলিশকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সালিশি সভায় জানানো হয় সাবালিকা হলে ওই যুবক ভাগ্নিকে বিয়ে করবে। কিন্তু তারপর ফোন করে নানা রকম মানসিক অত্যাচার করছিল। ওই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ভাগ্নি আত্মঘাতী হয়। থানায় বার বার অভিযোগ জানালেও কোনও লাভ হয়নি। তাই মুখ্যমন্ত্রী সহ পুলিশের সর্বস্তরে সুবিচার চেয়ে চিঠি দিয়েছি। আমরা এর বিচার চাই।

