রাজেন রায়, কলকাতা, ৮ এপ্রিল: তৃতীয় দফার নির্বাচনে আক্রান্ত হতে হয়েছিল বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারী ও সুজাতা মণ্ডল খাঁ-কে। তৃতীয় দফার নির্বাচনে যেভাবে শাসক ও বিরোধী পক্ষের প্রার্থীরা একের পর এক আক্রান্ত হয়েছেন তা দেখে কমিশনের নির্বিঘ্নে নির্বাচনের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নিল নির্বাচন কমিশন।
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, চতুর্থ পর্বের নির্বাচন থেকেই রাজ্যের সব মহিলা প্রার্থীদের বাড়তি নিরাপত্তা প্রদান করা হবে। এই নিয়ে কমিশন প্রত্যেকটি জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশও পাঠিয়ে দিয়েছে।
গত ৬ এপ্রিল তৃতীয় দফার নির্বাচনে শাসক পক্ষের ৪ জন ও বিজেপির ২ জন প্রার্থী আক্রান্ত হন। প্রত্যেকটি ঘটনা ঘটে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সামনেই। কিন্তু বিজেপি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে যাও বা তাঁদের কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেখা গিয়েছে, শাসক দলের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তাঁরা কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে গিয়েছেন। এমনকি নানা টিভি চ্যানেল, সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদপত্রে যেমন নানা ছবি ও ভিডিও দিয়ে পরিষ্কার ভাবে তা তুলে ধরা হয়েছে যে আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী সুজাতা খাঁকে মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়েছে তেমনি এই ঘটনাতেই জেলার পুলিশ সুপার কমিশনের কাছে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন।
সাধারণত বাংলায় বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনে মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে ভোটের দিন একজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী পেয়ে থাকেন জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে। কিন্তু এবার থেকে রাজ্যের সব মহিলা প্রার্থীরা ভোটের দিন ২জন করে নিরাপত্তারক্ষী পাবেন। এই মর্মেই সব জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। স্পর্শকাতর এলাকার ভিত্তিতে মহিলা প্রার্থীর নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনমতো জেলাগুলিকে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

