আমাদের ভারত, ১১ জুলাই: রাজ্যজুড়ে বেআইনি মদ এবং গাঁজার ঠেক সমূলে উপড়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এর জন্য পুলিশকে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনায় মদের ঠেকগুলির বড় ভূমিকা আছে বলেই মনে করেন তিনি। গ্রামগঞ্জ থেকে এগুলো কি উপরে ফেলার ডাক দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এ ধরনের ঠেকের হদিস থাকলে পুলিশকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার বারুইপুর সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্যাতিতা বালিকার পরিবার এবং গণপিটুনিতে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। দুই পরিবারকেই পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সব কিছুর কার্যকারণ থাকে। যে জঘন্য অপরাধ হয়েছে, আমি মনে করি তার পিছনে বেআইনি মদের ঠেক, বেআইনি গাঁজা ও চরস মাদকের বড় ভূমিকা আছে। আপনারা পুলিশকে এগুলি জানান।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা। তাদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ডিজিপিকে বলবো আগামী দুই সপ্তাহ রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন অভিযান চালান।ব্যাটেলিয়ানে থাকা লোকজনকে বিশেষ অভিযানে লাগান। রাজ্যে যত বেআইনি মদের ঠেক, গাঁজা ও চরসের ঠেক আছে তার বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে। সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে গ্রামগঞ্জেও সে তৎপরতা এবার দেখতে চান তিনি।
তাঁর কথায় রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে প্রতিদিনই ধরপাকড় হচ্ছে। কিন্তু গ্রামীন এলাকা থেকেও এটা উপরে ফেলা দরকার, যাতে এই সামাজিক দূষণ থেকে আমরা পরিবেশকে বাঁচাতে পারি।
শনিবার গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নিহতর দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরি দেওয়া হয়েছে সূর্যপুরে নতুন উদ্বোধন হওয়া ফাঁড়িতে। শুভেন্দু অধিকারী জানান, নির্যাতিতা বালিকার পরিবারকেও সাহায্য করা হয়েছে, তবে তা তিনি নিজে বলতে চান না। পরিবার যদি মনে করে সংবাদমাধ্যমে বলতে পারেন। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি মেনে এলাকায় নতুন পুলিশ ফাঁড়ি তৈরি করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

