আমাদের ভারত, ১১ জুলাই: ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে লোকসভায় দুটি বিল পেশ করা হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল “এক দেশ এক ভোট” আইন প্রণয়ন। সেই বিল নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে সংসদে যৌথ কমিটি গঠন করা হয়। তার আগে এই আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন সরকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির ১৮০০০ পাতার রিপোর্ট নিয়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে পর্যালোচনা করছে জেপিসি রিপোর্ট।
রিপোর্টে সুপারিশ করা হয়েছিল যে প্রথমে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন সমন্বিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পৌরসভার ভোটের আয়োজন করা হবে। কেন্দ্রের দাবি ছিল, এই নীতি কার্যকর হলে দেশের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। জিডিপির হার বাড়বে ১.৬ শতাংশ। এই দাবি করেছিলেন জেপিসি চেয়ারম্যান প্রেম প্রসাদ চৌধুরী।
যদিও এবারের বাদল অধিবেশনে এক ভোট সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করার সম্ভাবনা কম, কারণ জেপিসি এখনো সব রাজ্যের বিধানসভায় গিয়ে মতামত চাইছে এ বিষয়ে। বর্তমানে এক দেশ এক নির্বাচন চালু করতে হলে সংবিধানে মোট ১৮টি সংশোধন করতে হবে। যার অনেকগুলিতেই রাজ্য বিধানসভার সম্মতি প্রয়োজন।
এর আগে জাতীয় নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রকে জানিয়েছিল যে, দেশের লোকসভা ও সব রাজ্যে বিধানসভা ভোট একসঙ্গে হলে ১৫ বছরে ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে শুধুমাত্র ইভিএম এর জন্য, অর্থাৎ একটি ইভিএম সেট তিন নির্বাচনে ব্যবহার করা যেতে পারে। কেন্দ্র কেন এই আইন প্রণয়নে এত তৎপর? কী কী সুবিধা হতে পারে এই আইন চালু হলে?
একই সঙ্গে দেশজুড়ে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের ফলে সরকার গুলির পরিচালন প্রক্রিয়া সুশৃংখল হবে। বারবার নির্বাচনের সময় সরকারি কাজ ব্যাহত হয় অনেকদিনের জন্য। ঘন ঘন নির্বাচনের ফলে আদর্শ আচরণ বিধি একাধিকবার প্রয়োগ করতে হয়, যা নীতি বাস্তবায়ণ ও শাসন কার্যে বিলম্ব ঘটায়। ধারাবাহিক নির্বাচনী চক্র সরকার গুলিকে দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়নমূলক লক্ষ্যের চেয়ে স্বল্পমেয়াদি জনমোহিনী পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করে। এক দেশ এক ভোটের ফলে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে।
পৃথক নির্বাচন পরিচালনায় বিপুল আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যয় হয়, এক দেশ এক ভোটের মাধ্যমে বিপুল খরচ সাশ্রয় সম্ভব হবে। জেপিসি চেয়ারম্যান দাবি করছেন, দেশের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হতে পারে। জিডিপির হার বাড়বে ১.৬ শতাংশ।
ঘনঘন নির্বাচন সংসদীয় কার্যক্রমকে রাজনৈতিক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে। যার ফলে কৃষি, শ্রম ও সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি পাশ করাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে অচলাবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।
ঘন- ঘন নির্বাচন সাম্প্রদায়িকতা, জাতিভেদ প্রথা, দুর্নীতি ও ভোট কেনাবেচা বাড়িয়ে তোলে। একইসঙ্গে একাধিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেই সমস্যাগুলি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
কিন্তু এক দেশ এক ভোটে সমালোচকদের যুক্তি, এটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে পূর্ব দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যায় যে, একসঙ্গে নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে পারে। জাতীয় ও রাজ্য নির্বাচন একসঙ্গে করা হলে তা বিভিন্ন স্তরের সরকারের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে পারবে যা নীতি বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে বলেই দাবি করা হচ্ছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা অংশের পক্ষ থেকে।

