শক্তিশালী প্রতিরোধ বাহিনী তৈরির ডাক সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্টের

আমাদের ভারত, ৭ জুন: “এখন এই বাংলা হয়ে উঠেছে জেহাদীদের আঁতুড়ঘর। এখানে মানুষ নিরাপদ না হলেও যথেষ্ট নিরাপদ মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা থেকে শুরু করে আইএসআই চর ও চীনা গুপ্তচর থেকে শুরু করে তালিবানি সৈন্য।”

মঙ্গলবার এই মন্তব্য করলেন সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্টের সভাপতি শঙ্কর মণ্ডল। এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, ”এ হেন পরিস্থিতিতে যেভাবেই হোক গড়ে তুলতে হবে শক্তিশালী প্রতিরোধ বাহিনী, যা এই শক্তির মোকাবিলা করতে পারবে। মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে অসম্ভব বলে কোনো কিছুই হয় না। হ্যাঁ, কঠিন কিন্তু থামলে চলবে না। ইতিহাস সাক্ষী। আত্মবিশ্বাস থাকলে জয় একদিন আসবেই।”

শঙ্করবাবুর কথায়, “সত্যিই কি বাংলায় রাজনৈতিক সচেতন মানুষ ও শিক্ষার প্রাণভোমরা এখনো বিরাজমান? সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি দেখে কখনো মনে ভিসন মুস্কিল যে এই বাংলায় একের পর এক রাজনৈতিক আন্দোলন, বাংলা তো বটেই সমগ্র দেশের রাজনীতির ভিতকে টলিয়ে দিয়েছিল। হ্যাঁ, সেটা ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন হোক, খাদ্য আন্দোলন হোক কিংবা পরবর্তী কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে কোনো ইস্যুতে লাগাতার সরকার বিরোধী আন্দোলন হোক।

কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকার যখন একের পর এক দুর্নীতি ও জনরোষ তৈরির মত যথেষ্ট সুযোগ তৈরির ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে, মানে সেটা চাকরির নিয়োগ থেকে শুরু করে শিক্ষার মানকে রসাতলে পাঠিয়ে সরাসরি শিক্ষাকে রাজনীতিকরণ, লাগাতার আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে মানুষের নিরাপত্তাকে তলানিতে ঠেকিয়ে যখন শঙ্কিত ঠিক তখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল অযোগ্যতার নাগপাশে সমগ্র শরীর জরিয়ে নিজেদের একটি হাস্যকর বস্তুতে পরিণত করেছে। আর এই সুযোগে রাজ্যের শাসক দল চতুরতার সঙ্গে মানুষের ফোকাস ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে কিছু অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক উসকে দিয়ে। রাজনৈতিক দলে চরবৃত্তি ও লাগাতার দলবদল, এটা কোনো রাজনৈতিক সচেতনতার দিক নির্দেশ করতে পারে না।

আর শিক্ষার মান এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাতে কখনো মনে মুশকিল যে, এই রাজ্যেই একদিন বঙ্কিমচন্দ্র থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ, মাইকেল থেকে শুরু করে নজরুল, মেঘনাদ সাহা থেকে শুরু করে সত্যেন বোস, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়রা এই বাংলায় তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে শিক্ষার কারনে বিশ্ব খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

একটা সময় ছিল যখন কলমের ধার শুধু লেখক, বিজ্ঞানী কিংবা শিক্ষকদের জন্যই সংরক্ষিত থাকতো না, সে যুগে এই ধারালো কলমের মাধ্যমেই বহু অশুভ শক্তিকে ঘায়েল করতো রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ অনেক মানুষও। কিন্তু আজ সেসব অতীত। আজকের রাজনীতিতে কখনো উঠে আসছে তোলাবাজি, পাচারকার্য বা কামিনী কাঞ্চনের তত্ত্ব। ঠিক তেমনি উঠে আসছে বাংলার সংস্কৃতি,কৃষ্টি ও আধ্যাত্মিক চর্চার শেষ সম্বলটুকু বাঁচিয়ে রাখার অনিশ্চয়তা।

আসুন এই লক্ষ্যেই একত্রিত হই, একদিকে শুরু হোক ৫১শক্তিপীঠের অন্যতম শৃঙ্খলা দেবীর মন্দির ও আদিনাথের মন্দির পূণরুদ্ধারের তীব্র আন্দোলন, শুরু হোক শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবি নিয়ে আন্দোলন, সংবিধানের ২৬ নম্বর ধারা পরিবর্তনের দাবি নিয়ে তৈরি হোক আন্দোলন ও সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান জানিয়ে বেআইনি গো হত্যা বন্ধের আন্দোলন, এই সমস্ত আন্দোলনের জন্য সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্ট দায়বদ্ধ।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *