আমাদের ভারত, ২২ মার্চ:রামপুরহাট কাণ্ডে ১০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের দ্বারস্থ হলো বিজেপি। ঘটনায় পদ্ম শিবিরকে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিলো কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তবের ডিভিশন বেঞ্চ। রামপুরহাটে তৃণমূল উপপ্রধান খুনের পরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। বকটুই গ্রাম। বেশকটি বাড়িতে আগুন লাগানো হয় বলে অভিযোগ। অগ্নিদগ্ধ হয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে ওই গ্রামে। এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার আর্জি নিয়ে মঙ্গলবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি।
মঙ্গলবার আদালতের উল্লেখ পর্বে রামপুরহাট প্রসঙ্গকে সামনে রেখে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বিজেপির আইনজীবীরা। স্বতঃপ্রণোদিত মামলা না হলেও বিজেপিকে মামলা করার অনুমতি দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। এই মামলা স্বতঃপ্রণোদিত হিসেবে গ্রহণ হবে কিনা তা নিশ্চিত করেনি আদালত। বিজেপির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, “রামপুরহাট কান্ডে আদালত যাতে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে তার আর্জি জানিয়েছিলাম, আদালত স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করতে রাজি না হলেও আমাদের মামলা করার অনুমতি দিয়েছে।”
সোমবার রাতের অন্ধকারে গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১০ জনের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত গোটা গ্রাম।
চরম রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। আতঙ্কের পরিবেশ চারিদিকে। রামপুরহাটের ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একে অপরকে দায়ী করছেন। এই ঘটনার পর বিজেপি রাজ্য সভাপতি,বলেছেন রাজ্যটা মগের মুলুকে পরিণত হয়েছে। তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা যে একেবারে ভেঙে পড়েছে এই ঘটনা তা আবার প্রমাণ করে দিল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনায় কেন্দ্রে সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে উপপ্রধান খুনের এক ঘণ্টার মধ্যেই রামপুরহাটে ওই বাড়িগুলিতে আগুন লাগে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি। সোমবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন রামপুরহাট কান্ড এখনো পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “রামপুরহাটের দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের জেরে তৃণমূল কংগ্রেস উপপ্রধান খুনের ঘটনা ঘটে। তার এক ঘণ্টার মধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনা একে অপরের সঙ্গে জড়িত কি না সে বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। হতে পারে খুনের ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি সিট গঠন করা হয়েছে হয়েছে। এডিজি সিআইডির নেতৃত্বে ওই তদন্তকারী দল গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

