সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২২ ফেব্রুয়ারি: রাজ্যের অন্যতম প্রাচীন পুর শহরের তকমা রয়েছে। ১৩২ বছরের এই ঝালদা পুরসভা পুরুলিয়া জেলার অন্যতম প্রান্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ শহর। ব্লক থেকে মহকুমা শহরে রূপান্তরিত হওয়ার পরেও শতাব্দী প্রাচীন এই পুরশহরে নেই কোনও বাসস্ট্যান্ড। এবারের পুরভোটে ভোটারদের সম্মিলিতভাবে দাবি হয়ে উঠেছে তা।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টেছে অনেক কিছুই। ব্লক থেকে মহকুমা শহরে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সমস্যা রয়ে গেছে সেই তিমিরেই। মেটেনি যানজটের সমস্যা। একদিকে পুরুলিয়া, অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি। যোগাযোগের মাধ্যম এই ঝালদা। অথচ, পুরুলিয়ার মহকুমা শহর ঝালদায়, এখনও পর্যন্ত নেই নিজস্ব কোনও বাসস্ট্যান্ড। রাস্তার প্রায় মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েই বাসে যাত্রী তোলা ও নামানো চলে। এ যেন এখানে চেনা ছবি। অফিসের ব্যস্ত সময়েও সংকীর্ণ রাস্তার মাঝেই বেমক্কা দাঁড়িয়ে পড়ে বাস। পিছনে থমকে যায় অন্যান্য যানবাহন। যানজটের জন্য একপ্রকার হিমশিম খাওয়ার জোগাড়। আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সও। বাসিন্দাদের কাছে এটা নিত্য নৈমিত্তিক সমস্যা। আপাতত, পুরুলিয়া থেকে রাঁচি যাওয়ার মূল রাস্তারই একটি অংশ ঝালদা শহরের বাসস্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই দাবি, অতি সত্বর ঝালদা শহরে বাস স্ট্যান্ড নির্মাণ হোক। প্রতিবার নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের ভোট প্রচারের ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় ঝালদার এই বাসস্ট্যান্ড। বাসস্ট্যান্ড তৈরি হবে, মেলে প্রতিশ্রুতিও। কিন্তু, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি আজও।
এই বিষয়ে কংগ্রেস, শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগে সরব হয়েছে। পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নেপাল মাহাতো তৃণমূলকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি বিধানসভাতেও অনেকবার বলেছি। এখানে তৃণমূল ক্ষমতায় থেকেও এটা নিয়ে ভাবেনি।”

অন্যদিকে, ঝালদা পৌরসভার বিদায়ী পৌর প্রশাসক সুরেশ আগরওয়াল বলেন, “বাসস্ট্যান্ড তৈরির জন্য জমি দেখা হয়েছিল। কিন্তু, জমি জটের কারণে এখনও পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ড তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে, নতুন ভাবে বোর্ড গঠন করলে, ঝালদা শহরে নিজস্ব বাসস্ট্যান্ড তৈরি করাই হবে তাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য, আশ্বাস দিলেন তিনি।
কিন্তু, এবারের পুরভোটের পর কার দখলে থাকবে ঝালদা? আদৌ কি তৈরি হবে বাসস্ট্যান্ড? কবে ঝালদা বাসীর সমস্যা মিটবে? উত্তর অজানা।

