স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১৭ মে: ঘরের ভিতর থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য। ঘটনাটি ঘটে নদিয়ার কল্যাণী থানার অন্তর্গত সগুনা এলাকায়। মৃত যুবকের নাম সৌমেন বিশ্বাস (১৯)।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সন্দ্যায় ওই যুবক ঘরের ভিতর থেকে দরজা আটকে দেয়, বেশ কিছুক্ষণ পর পরিবারের লোকজন ডাকাডাকি করার পর কোনও সাড়াশব্দ না পাওয়ায় দরজা ভেঙ্গে ঢুকে দেখেন গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে রয়েছেন। তাড়াতাড়ি উদ্ধার করে কল্যাণী জহরলাল মেমোরিয়াল হাসপাতালে ওই যুবককে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে। ছেলের পরিবারের দাবি, ওই যুবক একটি মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম করত। তবে দুই পরিবার তাদের প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিলেও ছেলে ও মেয়ের মধ্যে প্রায়ই ফোনে বচসা লেগেই থাকত।

মৃত যুবকের বাবা হারান বিশ্বাস জানান, “আমি মাঠ থেকে ঘরে এসে দেখি দরজা দিয়ে ছেলে ঘরের ভেতরে। আমি দরজা ভেঙ্গে দেখি ও ঝুলে রয়েছে। মেয়েটার সাথে ঝগড়া হয়েছে। ভিডিও কলে কথাও হয়েছে। ভিডিও কল করে দেখিয়েছে যে ও আত্মহত্যা করছে। না হলে ওই মেয়ে কি করে জানবে? ওই মেয়ে প্রথম আমার স্ত্রী কে ফোন করে জানায় যে মা তোমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। আমার স্ত্রী এরপর আমাকে ফোন করে জানালে আমি বাড়িতে এসে দেখি আমার ছেলে আর নেই। মেয়েটার সঙ্গে ও প্রেম ভালোবাসা করেছে। আমি মেনে নিয়েছি। মেয়ের বাড়ি থেকেও ওরা ছেলেকে দেখে গেছে। আমি মেয়ের বাবাকে বলেছিলাম যে আমার ছেলে বা আপনার মেয়ের এখনো বিয়ের বয়স হয়নি। এই মুহূর্তে বিয়ে দেওয়া যাবে না। আমার বড় ছেলের আগে বিয়ে দেবো তারপর ছোট ছেলের বিয়ে দেবো। এটা আমি মেয়ের পরিবারকে বলেছিলাম যে দু বছর অপেক্ষা করতে। ততদিনে মেয়েরও বয়স হয়ে যাবে আমার ছেলেরও বয়স হয়ে যাবে। তার মধ্যে মেয়েটা আসা যাওয়া করত। আর এই আসা-যাওয়ার মধ্যে এই অবস্থা। মাঝেমধ্যেই ওদের দুজনের মধ্যে ঝগড়া হতো।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে কল্যাণী থানার পুলিশ। তবে ওই যুবকের প্রেমের কারনে কি আত্মহত্যা? না কি তার পিছনে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য , জানতে তদন্ত শুরু করেছে কল্যাণী থানার পুলিশ।

