খড়্গপুরে মাটি খুঁড়ে গুলিবিদ্ধ কিশোরের দেহ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য

জে মাহাতো, আমাদের ভারত, খড়্গপুর, ৩১ জুলাই: খড়গপুর লোকাল থানার কাঁটাপাল গ্রামে এক কিশোরকে গুলি করে খুন করার পর মৃতদেহ মাটিতে পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ উঠল একটি কারখানার এক নিরাপত্তারক্ষীর বিরুদ্ধে।

গোপনসূত্রে খবর পেয়ে ওই গুলিবিদ্ধ কিশোরের দেহ মাটি খুঁড়ে শনিবার উদ্ধার করেছে খড়গপুর লোকাল থানার পুলিশ। লোকাল থানার  গোকুলপুর স্টেশন লাগোয়া কাঁটাপাল এলাকার এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গোকুলপুর স্টেশন বাজার থেকে ২০০মিটার দূরে ঘটনাস্থলে যান পশ্চিম মেদিনীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রানা মুখোপাধ্যায় সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিক। কীভাবে ওই কিশোর গুলিবিদ্ধ হল আর কেনই বা তাঁকে রাতারাতি মাটিতে গর্ত করে পুঁতে দেওয়া হল তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় আরও ১জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার বেলার দিকে মৃতদেহটি উদ্ধার করার পর দেখা যায় গত ২৪ ঘন্টার মধ্যেই গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে ওই কিশোর। দেহটি  ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে। বিষয়টি নিয়ে এখনই মুখ খুলতে রাজি হয়নি পুলিশ। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘পুরো বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তের স্তরে রয়েছে। এখনই কিছু বলার মত নয়।’ ঘটনায় অভিযুক্ত কারখানার নিরাপত্তারক্ষী সুরেন্দ্র নাথ ঠাকুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

স্থানীয় একটি সূত্র জানা যাচ্ছে, খড়গপুর শিল্পতালুকে বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে। মাঝে মধ্যেই কারখানাগুলির প্রাচীরের ভাঙ্গা অথবা অরক্ষিত অংশ দিয়ে, কখনও বা প্রাচীর টপকে কারখানার যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায় কিছু মানুষ। আর সেই কারণে বন্ধ কারখানায় গানম্যান বা সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকে। তাদেরই গুলিতে আহত হয়ে ওই কিশোরের মৃত্যু হয় থাকতে পারে এমনটাই অনুমান করা হচ্ছে।

জানাগেছে, ওই কিশোরের নাম কাশীনাথ দলুই, বয়স আনুমানিক ১৫ বছর। কাশিনাথের বাড়ি কাঁটাপাল গ্রামেই।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকাল ৩টে নাগাদ ঘটনার খবর ছড়িয়েছিল ২জন কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়েছে। কাশিনাথের বাড়ি কাঁটাপাল থেকে ওই বন্ধ কারখানাটির দূরত্ব প্রায় ৫০০মিটার। গ্রামবাসীরা দেখতে পায় আহত দুজনকে কয়েকজন মিলে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে একজনের পায়ে গুলি লেগেছিল বলে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন। সে বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। কাশীনাথ ঘটনাস্থলে কিংবা কিছুক্ষণ পরে মারা যায়। সম্ভবতঃ বিষয়টি জানাজানি হয়ে যেতে পারে এই ভয় থেকেই তাকে মাটিতে গর্ত করে পুঁতে দেওয়া হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার তাদের কাছে খবর আসে যে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং একজনের মৃতদেহ মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। কিন্তু ঠিক কোথায় দেহ পোঁতা হয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছিল না পুলিশ। পাশাপাশি এলাকায় তীব্র উত্তেজনা থাকায় শুক্রবার সন্ধের সময় দেহ উদ্ধারের ঝুঁকি নেয়নি পুলিশ। শনিবার বড়সড় পুলিশ বাহিনী নিয়ে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করে খড়গপুর লোকাল থানার পুলিশ।

কাশীনাথের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের পরিবারের ছেলে চুরি করতে যায়নি। কারখানার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, নেহাতই সন্দেহের বশে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে খড়গপুর লোকাল থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *