আমাদের ভারত, ৪ আগস্ট: জৈশ ই মহম্মদের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ধৃত হামিম মন্ডলকে জেরা করে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য হাতে পাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তারা জানতে পেরেছেন, কেবল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারি কর্মসূচি বা যাতায়াতের রুট নয়, চিনার পার্কের বাসভবনও জঙ্গিদের নজরে ছিল। এমনকি নবান্ন চত্বরেও হামিম ও তার সহযোগীরা রেইকি করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ পুলিশের।
গত বৃহস্পতিবার পূর্ব বর্ধমান থেকে হামিম মন্ডলকে গ্রেফতারের পর তদন্তে জানা যায় পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডেলারদের নির্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে। বিশেষ করে নিরাপত্তা দুর্বল ও নিরাপত্তা বিহীন এলাকা চিহ্নিত করার নির্দেশ ছিল। ভবিষ্যতে কোনো বড় নাশকতার ছক বাস্তবায়ণ করাই ছিল লক্ষ্য।
তদন্তকারীদের দাবি, হামিম একাধিক বার মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছে। শুধু তাই নয়, চিনার পার্কের বাসভবনের আশপাশে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। এমনকি ওই এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকার পরিকল্পনা ছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল কিনা তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
এছাড়াও তদন্তকারীরা অনুমান করছেন, হামিম ও তার সহযোগীরা নবান্ন চত্বরে গিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেছিল। সেই সম্ভাবনা যাচাই করতে নবান্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। হামিমের গতিবিধি এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের উপস্থিতির সূত্র খোঁজা হচ্ছে ওই ফুটেজ থেকে।
তদন্তে আরো জানাগেছে, হামিমের সম্ভাব্য টার্গেটের তালিকায় শুধু মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন না। হাওড়া উত্তরের বিধায়ক তথা পুরো প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইও জঙ্গিদের নিশানায় ছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। অভিযোগ, তার ছেলেকে হ্যানিট্র্যাপের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে অপহরণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
এদিকে হামিমদের সহযোগী হিসেবে ঝাড়খণ্ডের অর্পিতা সরকার ও আদিত্য সিংকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে দাবি করা হচ্ছে, অর্পিতার মাধ্যমে পাকিস্তানের
হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখা হতো। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য বাংলায় সক্রিয় সম্ভাব্য জঙ্গি নেটওয়ার্কের বাকি সদস্যদের চিহ্নিত করা ও আর্থিক লেনদেনের উৎস খুঁজে বের করা, এবং সম্ভাব্য নাশকতার পূর্ণ ছক উদঘাটন করা। আর সেই কারণেই ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করে নতুন সূত্র খোঁজার কাজ চলছে।

