আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১ এপ্রিল: কামারহাটির সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্থায়ী কর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ল হাসপাতাল চত্বরে। অস্থায়ী কর্মীদের আন্দোলনের জেরে বন্ধ হয়ে যায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পরিষেবা।
সাগর দত্ত হাসপাতালের۔১১৬ জন গ্রূপ ডি-র অস্থায়ী কর্মীরা এদিন নিজেদের কাজে পুনরায় বহাল করার দাবি নিয়ে হাসপাতাল চত্বরে ধর্নায় বসেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই অস্থায়ী কর্মীদের দু’বছর আগে নিয়োগ করা হয়েছিল। করোনা পরিস্থিতিতে যখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছিল সেই সময় এই কর্মীরা কাজে যোগ দেয় এবং করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই হাসপাতালে কাজ করে যায়। কিন্তু কয়েকদিন আগে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে হাসপাতালে একটি নোটিশ পাঠানো হয়, যেখানে বলা হয় হাসপাতালের অস্থায়ী ওই ১১৬ জনকে কাজ থেকে বসানো হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ নোটিস আকারে দিয়ে জানিয়ে দেয় যে এই ১১৬ জনকে এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে বসিয়ে দেওয়া হবে। এরপরই আজ ওই অস্থায়ী কর্মীরা কাজ ফিরে পাওয়ার দাবি নিয়ে হাসপাতালের আউটডোরের প্রবেশের রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। আর এই বিক্ষোভের জেরে হাসপাতালের সমস্ত পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম সমস্যায় পড়েন দূর দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীরা। এই ধর্না বিক্ষোভের জেরে হাসপাতালে রোগীদের জন্য থাকা বহির্বিভাগ, বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার ল্যাব সংক্রান্ত পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে হাসপাতালে আসা রোগী ও তার আত্মীয়দের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এই ধর্না বিক্ষোভ ওঠানোর জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করেন।কিন্তু বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি নিয়ে ধর্না চালিয়ে যায়।
এদিন আন্দোলনকারী অস্থায়ী শ্রমিকরা বলেন, “করোনা মহামারীর সময় আমাদের হাসপাতালে কাজ করার জন্য নেওয়া হয়। আমরা করোনার মধ্যেই সেই সময় কাজ করে যাই। কিন্তু এখন করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে যাওয়ার পর আমাদের এই হাসপাতালে কোনো প্রয়োজন নেই বলে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এখন আমাদের কি হবে? আমরা আমাদের পরিবারকে কি করে খেতে দেব চাকরি চলে গেলে? তাই আমরা বাধ্য হয়েছি হাসপাতালে বিক্ষোভ ও ধর্নায় বসতে।”

এদিন ওই অস্থায়ী কর্মীরা দাবি করেন, তাদের পুনরায় কাজে বহাল করতে হবে না হলে তারা এই বিক্ষোভ ধর্না চালিয়ে যাবেন।
অপর দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয় যে, মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে ওই ১১৬ জন অস্থায়ী কর্মীকে যাতে পুনরায় কাজের সুযোগ করে দেওয়া হয় বা তাদের অন্য কোনো কাজের ব্যবস্থা করা হয় সেই বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে লিখিত আবেদন স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে পাঠানো হবে। এদিন দুপুর পর্যন্ত অস্থায়ী কর্মীদের এই বিক্ষোভ আন্দোলন চলে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিগুলি স্বাস্থ্য দপ্তরকে জানাবে বলে আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা ধর্না তুলে নেয়।

