সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২ এপ্রিল: তপন কান্দু খুনের কিনারায় পুলিশ। সুপারি কিলার দিয়েই পারিবারিক ঝামেলার কারণে খুন করা হয় ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুকে। আজ জেলা পুলিশ সুপার এস সেলভামুরগণ এই কথা জানান। একই সঙ্গে আজ নতুন করে দুই জনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়ে দেন তিনি।
হত্যার ঘটনায় বোকারো থেকে ধৃত কলেবর সিংকে লাগাতার জেরা করে চলেছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। আর সেই জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কলেবর সিংয়ের ভেঙে পড়ায় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন সুত্র থেকে। উল্লেখ্য, কলেবর সিং এই ঘটনার সুপারি কিলার বলে নিশ্চিত পুলিশ। তাকে ধরার পর থেকেই তদন্তে ব্যাপক অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানাগেছে।

আইজি পশ্চিমাঞ্চল সুনীল চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে পুরুলিয়ার মফঃস্বল থানার কাছে অবস্থিত পুলিশের গেস্ট হাউস ক্ষণিকা-তে করা হয় এই জিজ্ঞাসাবাদ। খুনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার সন্দেহে তপন কান্দুর ভাইপো দীপক কান্দুকে আগেই গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এবার এই খুনের অন্যতম অভিযুক্ত নিহতের দাদা নরেন কান্দুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুরুলিয়ায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে তাকেও গ্রেফতার করা হয়। কলেবর সিংয়েরর সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়ে তাদের জেরা করা হয়। মুখোমুখি জেরাতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, ঘটনার কয়েক দিন আগে ধৃত কলেবর সিং ঝালদা শহরের উপকণ্ঠে কুটিডি গ্রামে একটি ঘরে ছিল। জেলা পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, যে বাড়িতে কলেবর সিং ছিল সেই বাড়িটি গ্রামের একটু বাইরে অবস্থিত। এর মালিক হলেন আসিক খান নামে এক ব্যক্তি। তাকেও লাগাতার জেরা করা হচ্ছে। আর একদিনের মধ্যেই ঝালদার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর খুনের কিনারা হয়ে যাবে বলে নিশ্চিত পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।

এদিকে কুটিডি গ্রামে যেখানে কলেবর ছিল সেই বাড়িটি এদিনই ঘিরে ফেলেছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে এই বাড়ি থেকেই মূল চক্রান্তটি হয়েছে। বিপুল টাকার বিনিময়ে সুপারি দেওয়া হয়েছে তপন কান্দুকে খুন করার। এই বাড়ির মালিক মহঃ আশিক খান ধূপের ব্যবসা করেন বলে জানা গেছে। কী হিসেবে তিনি বাড়িটি দিয়েছিলেন তা পরিষ্কার নয়।
তার প্রতিবেশী মহম্মদ ফারুক বলেন, পাশের বাড়িতে থাকলেও সেরকম অস্বাভাবিক কিছুই তাদের চোখে পড়েনি। এখান থেকে যে এতবড় কাণ্ড হয়ে গেছে ভাবতেই পারছেন না তারা।

