Suvendu, Sukanta, Shamika, BJP, বিমানবন্দরে “নবীন” বরণে শুভেন্দু- সুকান্ত- শমীকরা, পৃথক নয় পরিপূরক হয়ে কাজ করার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি, কাদের?

আমাদের ভারত, ২৭ সেপ্টেম্বর: পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবার বঙ্গ সফরে এলেন নীতিন নবীন। সর্বভারতীয় সভাপতিকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। দু’দিনের ঠাসা কর্মসূচি নিয়ে বঙ্গ সফরে এসেছেন কেন্দ্রীয় নেতা। দিল্লিতে আরএসএস- এর সঙ্গে বিজেপির সমন্বয় বৈঠকের পরে নীতিন নবীনের এই আগমন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই যে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় সভাপতি তাতে সংগঠন ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়ের উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। বৈঠকে জনপ্রতিনিধি ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় সঠিক রাখার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় বিধায়ক ও দলের সংগঠনিক পদাধিকারীর মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসছে। জনপ্রতিনিধি ও সংগঠন পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয়ে রেখে কাজ করছে না, এমন অভিযোগ উঠেছে। যার প্রভাব সরকারের ভাবমূর্তির উপর পড়তে পারে বলেও মনে করছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর সেই কারণেই সরকার এবং সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় আরো মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন।

সূত্রে খবর, শনিবার সাংগঠনিক বৈঠকে জেলা সভাপতি, জেলা পদাধিকারী তথা জেলা নেতৃত্বকে আরো সক্রিয় ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দলের ভেতরে বেনোজল আটকানো এবং সংগঠনের প্রতিটি স্তরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরেও জোর দিয়েছেন। কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে না নেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি সতর্ক করেছেন নেতৃত্বকে। বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে কে কী করছেন, দলের সমস্ত স্তরের কাজ কর্মের উপর নজর রয়েছে। কোনো ধরনের ঔদ্ধত্য আচরণ বরদাস্ত করা হবে না।

জনপ্রতিনিধি থেকে জেলা নেতৃত্ব, সকলকে একসঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। দলের কর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণেও আরো সংবেদনশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসন্ন উপ নির্বাচন এবং পুরো নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে আরো সক্রিয় করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করে হবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে বৈঠকে। একইসঙ্গে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো তথা নিবিড় করতে জনসংযোগ কর্মসূচিতে জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নবীনের প্রাথমিক সাংগঠনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পদাধিকারী, বিভিন্ন বিভাগের আহ্বায়ক, মোর্চার সভাপতি, বিধায়ক, সাংসদ, জেলা সভাপতি, আইটি মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ও রাজ্যের মুখ্য মুখপাত্ররা।

বৈঠকে মূলত সংগঠনকে আরো শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সক্রিয় করা এবং সরকারের সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর সমন্বয় কিভাবে আরো কার্যকর করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলীয় সূত্র খবর, সরকার ও সংগঠন আলাদা সত্তা হলেও পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করলে সরকারের কাজের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে সফল এবং কার্যকরী ভাবে পৌঁছবে বলে বোঝানো হয়েছে। আর সেই লক্ষ্যেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও জনসংযোগ এই তিনটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। দলের অন্দরে বেনোজল আটকাতে জেলা নেতৃত্ব ও পদাধিকারীদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *