হিন্দু বিরোধি তকমা থেকে বাঁচতেই যেমন তেমন করে গঙ্গাসাগর মেলা করতে চাইছে মমতা সরকার, তোপ সুকান্ত মজুমদারের

আমাদের ভারত, ৬ জানুয়ারি: বাংলায় ক্রমেই বাড়ছে করোনার গ্রাফ। তারমধ্যে আদালতের নির্দেশের উপর ঝুলে রয়েছে গঙ্গাসাগর মেলার ভবিষ্যৎ। কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে মেলা করার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা রয়েছে। এবিষয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, হিন্দু বিরোধি তকমা থেকে বাঁচতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন তেমন করে হলেও গঙ্গাসাগর মেলা করতে চাইছে।

মেলা বন্ধের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে ওঠা মামলায় রায়দান স্থগিত রেখেছেন বিচারপতিরা। আগামীকাল এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে। করোনার কারণে ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়েছে কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভাল। আশঙ্কার দানা বেঁধেছে বইমেলাকে ঘিরেও। কিন্তু গঙ্গাসাগরের মেলা করতে চাইছে সরকার। আর তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাতেই সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার তোপ দেগেছেন বিজেপি নেতারা। রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি,”যেহেতু এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোট পাননি, সেহেতু তিনি নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে বেশি হিন্দু প্রমাণ করতে হচ্ছে। গোয়াতে গিয়ে মন্দিরে ঘুরতে হচ্ছে, ত্রিপুরায় গিয়ে মন্দিরে মন্দিরে পুজো দিতে হচ্ছে। যা সাধারণত আগে কোনদিনও করতেন না মমতা ব্যানার্জি এবং তারই সূত্র ধরে গঙ্গাসাগর মেলাকেও যেমন তেমন করে যেন চালানো যায়। কোনওভাবে যাতে হিন্দু বিরোধী তকমা না লাগে সেই চেষ্টায় চলছে।

এর আগেও সুকান্ত মজুমদার গঙ্গাসাগর মেলা প্রসঙ্গে বলেছিলেন, বড়দিন পালন বন্ধ করতে না পেরে এখন চক্ষুলজ্জায় গঙ্গাসাগর মেলা করতে হচ্ছে রাজ্য সরকারকে। আবারও সেই একই পথে হেঁটে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন সুকান্তবাবু।

গঙ্গাসাগর মেলা উপলক্ষে ইতিমধ্যে ভিড় জমতে শুরু করেছে বাবুঘাটে। ভিন রাজ্য থেকে আসা অধিকাংশেরই মুখে মাস্ক নেই বলে অভিযোগ। পুলিশি নজরদারির অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গঙ্গাসাগর মেলা নিয়ে মামলার শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছে, সরকার চাইলে এখনই মেলা বন্ধ করতে পারে কিন্তু সরকারের তরফে তখনই বলা হয়েছে মেলা করার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছা বরাবরই থাকবে। মেলা হলে বিধি পালনে সরকারের তরফ থেকে সবথেকে বেশি জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এডভোকেট জেনারেল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *