অপদার্থ স্পিকার! বিধানসভার ঘটনার দায় নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত: সুকান্ত মজুমদার

আমাদের ভারত, ২৮ মার্চ: বিধানসভায় শাসক ও বিরোধীদলের বিধায়কদের মধ্যে হাতাহাতি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন উভয় দলের বিধায়করা বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় বিজেপির পাঁচ বিধায়ককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এদিনের ঘটনায় স্পিকারে কাজ ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বিধানসভার স্পিকারের সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি একজন অপদার্থ স্পিকার। পুরো ঘটনার দায় নিয়ে স্পিকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন সুকান্তবাবু।

সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মাননীয় স্পিকার আমাদের মধ্যে যাদের কেন্দ্রীয় সুরক্ষা বাহিনী আছে তাদের তো বিধানসভার ভেতরে প্রবেশ করতে দেন না। ভারতবর্ষের সেনাবাহিনীকে বাইরে রোদে দাঁড় করিয়ে রাখেন। কিন্তু সেই স্পিকারের দায়িত্ব বিধায়ক, বিধায়িকাদের দলমত নির্বিশেষে সুরক্ষা দেওয়া সেই কাজ করতে তিনি অপারক হয়েছেন। তাই স্পিকারের ইমিডিয়েটলি পদত্যাগ করা উচিত। তার নৈতিক কোনও যোগ্যতা নেই। ঘটনার দায় নিয়ে তাঁর ইস্তফা দেওয়া উচিত।”

একইসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, বিধানসভায় বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। গণতন্ত্রে পরস্পরের বিরোধিতা থাকবে। পরস্পরের বক্তব্য রাখার স্থান থাকা চাই। কিন্তু বিধানসভায় তা হচ্ছে না। বিরোধীদের ওপর হামলা হচ্ছে। শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত থাকছে না শাসকদল। তারপরেই সাসপেন্ড করা হচ্ছে বিরোধী দলের বিধায়কদের। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বিধানসভায় আজকের ঘটনার পর বিরোধী দলনেতা সহ বিজেপির পাঁচ বিধায়ককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সুকান্ত মজুমদার বলেন,
“অপদার্থ স্পিকার। এই সম্মানীয় পদ নিয়ে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়, কিন্তু উনি যা করেছেন তার ফলে এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করা ছাড়া আমাদের উপায় নেই।” বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, “স্পিকারের যোগ্যতা নেই বিধানসভা চালানোর। ওনার ইস্তফা দেওয়া উচিত।”

বিজেপি সাংসদের কথায় আজ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেকটা তৃণমূল কংগ্রেস পুঁতে দিয়েছে। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন রকমের পরিস্থিতি দেখেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। সেটা চাকরির পরীক্ষার কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে, দুর্গাপুজোর বিসর্জন পিছিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে, জয় শ্রীরামকে গালাগালি করা, ফোনে শাসনো। কিন্তু আজকে আমরা গণতন্ত্রের শেষ পেরেক পুঁতে দিতে দেখলাম।” তিনি বলেন, “নানারকম কায়দায় ভোট লুট হয়েছে সেটা ছেড়েই দিলাম, আজ আমরা দেখলাম গণতন্ত্রের শেষ পেরেক বিধানসভায় পোঁতা হলো। যেভাবে বিধানসভায় বিজেপির বিধায়কদের উপর হামলা করা হলো, তাদের শারীরিক হেনস্তা করা হলো পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভায় এর আগে কোনওদিনও ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই।” তিনি অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রায় পাঁচ জন বিধায়ক বিধায়িকা রয়েছেন যাদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে। তাদের বর্ষীয়ান নেতা নরহরি মাহাতকে বিধানসভার ভেতরে ফেলে মারা হয়েছে। মনোজ টিগ্গার জামা ছিড়ে দেওয়া হয়েছে। বিধায়কদের গলা, বুক জুড়ে নখের দাগ। যেটা দেখে মনে হচ্ছে কোনও হিংস্র শাবক আক্রমণ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *