আমাদের ভারত,২৩ সেপ্টেম্বর: মুকুল রায় দলত্যাগ অভিযোগের শুনানিতে অনুপস্থিত। আর তাঁর এই বৈঠকের না আসার কারণ জানিয়ে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ। এবার সেই চিঠিকেই নিজেদের অভিযোগের স্বপক্ষে বড় হাতিয়ার বলে দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার স্পিকারের কাছে মুকুলের দলত্যাগ বিরোধী মামলার শুনানি ছিল। দুপুর ১টা নাগাদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় ও তাদের আইনজীবীরা পৌঁছে যান। আধঘন্টা চলে সেই শুনানি পর্ব। মুকুলের অনুপস্থিতিতে আগামী শুনানির দিন হিসেবে ১২ নভেম্বর ধার্য করেন স্পিকার।
তবে স্পিকারের উদ্দেশ্যে লেখা তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে মুকুল অসুস্থতার কারণেই শুনানিতে যোগ দিতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার তাঁর পক্ষে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৃষ্ণনগর উত্তরের বিজেপি বিধায়ক মুকুলের হয়ে তৃণমূলের মুখ্য সচিবের এই চিঠিকে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের আবেদনের ক্ষেত্রে বড় হাতিয়ার বলে মনে করছে বিজেপি।
শুভেন্দু বলছেন, মুকুলবাবু যে তৃণমূল পরিষদীয় দলের সদস্য হয়েছেন তা প্রমাণ আজ দিয়ে দিয়েছেন। তাঁর উত্তরের বদলে স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূল দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, অসুস্থতার কারণে মুকুল রায় শুনানিতে আসছেন না। মূলত তিনটি বিষয়কে হাতিয়ার করেছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, প্রথমত নির্মল ঘোষ এই চিঠিটি দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে মুকুল রায় তৃণমূল পরিষদীয় দলের সদস্য। অতএব মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন এখনই কার্যকর করা দরকার। দ্বিতীয়ত তিনি নিজে না আসতে পারলেও চিঠি দিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে পারতেন। তৃতীয়ত তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের এই চিঠির সঙ্গে মুকুলের স্বাস্থ্য সম্পর্কে কোনো নথি দেওয়া হয়নি।
তবে বিজেপি স্পিকারের সিদ্ধান্তের জন্য খুব বেশি আর অপেক্ষা করবে না বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। মণিপুর বিধানসভার একটি দলত্যাগ বিরোধী মামলার আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিধানসভার স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে বিজেপি প্রত্যেক দলত্যাগী বিধায়কের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায়। স্পিকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে আদালতের দ্বারস্থ হবে গেরুয়া শিবির। শুভেন্দু জানিয়েছেন আগামী সোমবার তারা মুকুলের দলত্যাগের বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। আরো দুই দলত্যাগী বিধায়ক বিষ্ণুপুরের তন্ময় ঘোষ ও বাগদার বিশ্বজিৎ দাসের বিধায়ক পদ খারিজের জন্য ইতিমধ্যে স্পিকারের কাছে আবেদন করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সে ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে বিজেপি। ফল না পেলে তাদের ক্ষেত্রেও আদালতে যাবেন তারা।

