প্রায় সাড়ে সাতশো শিশু অজানা জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে, রাজ্য প্রশাসন ব্যস্ত ভবানীপুর নিয়ে, কেন্দ্রের দ্বারস্থ শুভেন্দু অধিকারী

আমাদের ভারত, ১৬ সেপ্টেম্বর: রাজ্যে একাধিক জেলায় আজানা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে বহু শিশু। তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। অনেক হাসপাতালেই বেড ভর্তি। কিন্তু রাজ্য প্রশাসন ব্যস্ত ভবানীপুর নির্বাচন নিয়ে। এমনটাই অভিযোগ করে রাজ্যের শিশুদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারস্থ হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শিশুদের স্বাস্থ্যের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আবেদন করে রাজ্যে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনসুখ মান্ডব্যকে চিঠি দিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় শিশুরা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। দিন প্রতিদিন শিশুদের জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যাটা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ রাজ্য সরকার নির্বাচনের দিকে নজর রাখলেও এই বিষয়ে রাজ্যের কোনও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী টুইটে লিখেছেন,”পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভবানীপুর দখলের কথাই ভাবছেন। কারণ এটাই তাদের কাছে প্রধান অগ্রাধিকার। মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি অবিলম্বে বিশেষজ্ঞদের একটি কেন্দ্রীয় দল পশ্চিমবঙ্গের পাঠান। রাজ্যের শিশুদের বাঁচাতে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দপ্তরকে কিভাবে সাহায্য করা যায় তা দেখুন।”

পাশাপাশি তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।‌ তিনি লেখেন উত্তরবঙ্গ থেকে একের পর এক ভয়ঙ্কর খবর আসছে। সাড়ে সাতশোর বেশি শিশু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালেগুলিতে চিকিৎসাধীন। ভাইরাল ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ রয়েছে তাদের সকলেরই। জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে ফলে যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

গত কয়েকদিন ধরে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মালদা সহ উত্তরবঙ্গের বেশ কিছুসংখ্যক শিশু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের অনেকের শ্বাসকষ্ট রয়েছে। মালদাতে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে ওই শিশুদের কোমর্বিডিটি ছিল বলেই ওই ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু উত্তরবঙ্গের পর পুরুলিয়াতেও শিশুদের মধ্যে জ্বরের প্রকোপ বাড়ছে। জানা গিয়েছে জেলার দেবেন মাহাতো মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিশু বিভাগের জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ২৩৫ জনেরও বেশি শিশু। শিশু বিভাগের মারাত্মক রকম ভিড়। হাসপাতাল সূত্রে খবর জায়গার অভাবে একই বেডে চার থেকে পাঁচ শিশুর চিকিৎসা চলছে। অধিকাংশ শিশুর জ্বর সর্দি কাশির উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। তবে করোনার সংক্রমণ নেই কারো শরীরে। অন্যদিকে দার্জিলিং জেলায় টাইফাস রোগে আক্রান্ত জেলার ছয় শিশু। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। সমগ্র বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *