আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৮ অক্টোবর: পাওয়ার কথা নবম শ্রেণিতে পাঠরত অবস্থায়, কিন্তু দশম শ্রেণির মধ্যবর্তী সময়ে এসেও বিগত সরকারের সুবুজ সাথী প্রকল্পের বা বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকারের সারথী প্রকল্পের সাইকেল না পেয়ে বাঁকুড়ার মেজিয়া থানার জপমালি দেশবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র- ছাত্রীরা আজ স্কুল গেটের সামনে ধর্নায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। তাদের দাবি, সাইকেল না পেলে তারা বিদ্যালয়ের গেটের তালা খুলতে দেবে না। পড়ুয়াদের বিক্ষোভ অবস্থানে একে একে শিক্ষকরা এসে আটকে পড়েন। তাদেরও ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ছাত্ররা দাবি করতে থাকে, বিডিও, স্কুল পরিদর্শক এসে বলে যান কবে সাইকেল দেওয়া হবে।

গত বছর সারা রাজ্যের পাশাপাশি বাঁকুড়ার জপমালি দেশবন্ধু হাইস্কুলেও নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের সবুজ সাথী প্রকল্পে সাইকেল দেওয়ার কথা ছিল। অন্যান্য স্কুলে সাইকেল দেওয়া হলেও কোনকারণে ওই প্রকল্পের সাইকেল পায়নি জপমালি হাইস্কুলের পড়ুয়ারা। অভিযোগ, সাইকেলের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার পড়ুয়া ও অভিভাবকরা দরবার করলেও প্রতিবারই কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে পরে দেওয়া হবে এই আশ্বাস দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নবম শ্রেণির ১২২ জন পড়ুয়া এখন স্কুলের দশম শ্রেণিতে পাঠরত। চলতি বছর ওই স্কুলে সারথি প্রকল্পে নবম শ্রেণির পড়ুয়াদের হাতে সাইকেল তুলে দেওয়া হলেও দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা তা থেকে বঞ্চিতই রয়েছে। এরই প্রতিবাদে এদিন স্কুল শুরুর সময় স্কুলের মেইন গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা।

বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়েও কোনো লাভ না হওয়ায় দীর্ঘক্ষণ স্কুলের বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকেন শিক্ষক- শিক্ষিকারা। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে উপস্থিত হন মেজিয়া থানার পুলিশ ও বিদ্যালয় পরিদর্শক অরুণ চ্যাটার্জি। তিনি বলেন, সবুজ সাথীর সাইকেল কেন দেওয়া হয়নি তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এবছর সারথী প্রকল্পের সাইকেল দেওয়া হলেও দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা কেন পেলো না। তার জবাবে স্কুল পরিদর্শক অরুণ চ্যাটার্জি বলেন, সেটাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। তবে তিনি আশ্বাস দেন, যারা পায়নি তারা যাতে পায় তার ব্যবস্থা করবেন।

