আমাদের ভারত, বীরভূম, ৬ সেপ্টেম্বর: তিরুপতি, বেনারসের আদলে এবার বিশেষ দর্শনের জন্য অনলাইন টিকিট চালু হলো তারাপীঠে। সোমবার তারাপীঠ মন্দিরে বিশেষ দর্শন ও পুজোর জন্য প্রথম অন লাইনে টিকিট কেটে “ডিজিট্যাল; তারাপীঠ”এর উদ্বোধন করলেন রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা। এরপরেই মহকুমা শাসক অশ্বিনী বাবুসিং রাঠোর ডিজিটাল টিকিট কাটেন। মহকুমা শাসক জানিয়ে দিয়েছেন, এই সুবিধা পুন্যার্থীরা সব সময়ের জন্য পাবেন।

তারাপীঠে মা তারার পুজো কিংবা দর্শনের জন্য বেশ কয়েকটি লাইন রয়েছে। একটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এই লাইনেই মানুষ দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পুজো দেন। এছাড়াও ৫০০ টাকা দিয়ে বিশেষ লাইনে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। সেই টাকা লাইন দিয়ে কাটতে হত পুন্যার্থীদের। আরকটি লাইনে মন্ত্রী, আমলাদের পুজো ব্যবস্থা রয়েছে। অন্যান্যবার কৌশিকী অমাবস্যায় লক্ষ লক্ষ মানুষ বিশেষ দর্শনের জন্য কোথায় টিকিত পাওয়া যাবে সে নিয়ে হন্যে হয়ে খুঁজত। এবার সেই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে দেশের বেশ কিছু তীর্থক্ষেত্রের মতো তারাপীঠেও চালু করা হলো ডিজিটাল টিকিট। পুন্যার্থীরা ঘরে বসেই টিকিট কেটে মা তারার পুজো দিতে পারবেন।
মন্দির কমিটির সভাপতি নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই পদ্ধতিতে পুন্যার্থীদের হয়রানি কমবে। সেবাইতদের আলাদা করে টিকিট কাউন্টার খুলতে হবে না”।

মহকুমা শাসক অশ্বিনী বাবুসিং রাঠোর বলেন, “এই পদ্ধতি বরাবর চলবে। পুন্যার্থীরা বাড়িতে বসে টিকিট সংগ্রহ করে মন্দিরের স্ক্যানারে টিকিট স্ক্যান করে মন্দিরে ঢুকতে পারবেন। এরপর আমরা পুন্যার্থী বা বিভিন্ন মানুষের মতামত নিয়ে এই পদ্ধতি কিভাবে আরও উন্নত করা যায় সেটা দেখব। এই পদ্ধতির ফলে সমস্ত সংগ্রহীত টাকা স্বচ্ছ থাকবে। কোনো সেবাইত বেশি টাকা নেওয়ার সুযোগ পাবেন না। পরবর্তীকালে আমরা অনলাইন পুজো দেওয়া, অনুদান পাঠানোর জন্য আলাদা অ্যাপ তৈরি করব। আমরা চাই মন্দিরে আদায়কৃত টাকা স্বচ্ছ হোক”।
বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, “আপাতত দেড়মাস এই পদ্ধতি চলবে। তারপর আরও উন্নত করে অন লাইন পদ্ধতি চালু রাখা হবে। এরফলে সেবাইতরা কোনভাবেই বঞ্চিত হবেন না। যাদের যা প্রাপ্য তারা সেটা পাবেন। বাকি টাকা মন্দিরের উন্নয়নের কাজে লাগবে। মন্দিরের আয়- ব্যয়ের স্বচ্ছতা আনতেই এই পদ্ধতি চালু করা হলো।”

