Vidyasagar University, “সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়” বিষয়ক বিশেষ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে

পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৪ সেপ্টেম্বর: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে “সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়” শীর্ষক এক বিশেষ শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজ ও রাজনীতির পারস্পরিক সম্পর্কের আলোকে বঙ্কিমচন্দ্রের চিন্তা ও উত্তরাধিকারের নানা দিক নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা হয়। শিক্ষক, গবেষক ও ছাত্র- ছাত্রীদের সক্রিয় উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি একটি প্রাণবন্ত বৌদ্ধিক পরিসর তৈরি করে।

সম্মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক দীপক কুমার কর মহাশয়ের উদ্বোধনী ভাষণে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে উনিশ শতকের বাংলা তথা ভারতের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হয়। অধ্যাপক কর বলেন, বঙ্কিম চন্দ্র শুধু কথাসাহিত্যিক নন; ঔপনিবেশিক সময়ের ভারতীয় সমাজে সংস্কৃতি, পরিচয়, ধর্ম, সমাজ ও জাতীয়তাবোধ নিয়ে নতুন করে ভাবনার যে পর্ব শুরু হয়েছিল, বঙ্কিমচন্দ্র তার অন্যতম প্রধান নির্মাতা। সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণকে কেবল অতীতে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা হিসেবে না দেখে, ঐতিহ্যের সঙ্গে সমালোচনামূলক সংলাপ এবং পরিবর্তিত সময়ের প্রেক্ষিতে তার নতুন ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। আনন্দমঠ ও “বন্দে মাতরম্”-এর প্রসঙ্গে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে বঙ্কিমচন্দ্রের প্রভাবের পাশাপাশি তাঁর চিন্তার অন্তর্নিহিত জটিলতা ও দ্বন্দ্বগুলিও গভীরভাবে বিবেচনার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বিমল শঙ্কর নন্দ। তাঁর বক্তব্য বঙ্কিমচন্দ্রের বৌদ্ধিক জগৎ এবং তার বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য অনুধাবনের সুযোগ করে দেয়। তিনি বঙ্কিম মানসে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনের উপর আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক মাননীয় ড. জয়ন্ত কিশোর নন্দী মহাশয় বিশেষ অতিথির আসন অলঙ্কৃত করেন।

বিভাগীয় প্রধান ড. ইয়াসিন খান- এর বিশেষ সহযোগিতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সফল ভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের শেষে ড. স্বাতীলেখা ভট্টাচার্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *