জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৪ নভেম্বর: “রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে আজ খুব মিস করছি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের ভালো সম্পর্ক থাকতেই পারে, কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে যেভাবে কদর্য ভাষায় একজন মন্ত্রী আক্রমন করলেন, তাঁর কাগজে কলমে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা যেতেই পারে।” সোমবার দুর্গাপুরে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এমনই আক্ষেপের সঙ্গে বিষ্ফোরক মন্তব্য করলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। পাশাপাশি তিনি রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরির বিধায়ক ও মন্ত্রিত্ব পদ খারিজের দাবিতে রাজ্যপালকে চিঠি দিলেন।
উল্লেখ্য, মেদিনীপুরের একটি সভায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেন রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরি। তার মন্তব্যের জেরে গোটা দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। প্রতিবাদে সরব হয় আদিবাসী সমাজ ও বিজেপি। সারা দেশজুড়ে অবরোধ, বিক্ষোভ প্রতিবাদ মিছিল করছে বিজেপি ও আদিবাসী সংগঠনগুলি।
এমনকি মন্ত্রী অখিল গিরির গ্রেফতারের দাবিতে থানায় অভিযোগ দায়েরও হচ্ছে। এবার অখিল গিরির বিধায়ক ও মন্ত্রিত্ব পদ খারিজের দাবি তুলল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। এমনকি বর্তমান রাজ্যপালের সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুললেন তিনি।

সোমবার দুর্গাপুরে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এমনই আক্ষেপের সঙ্গে বিষ্ফোরক মন্তব্য করেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি সর্বময় কর্তা। ওই রাষ্ট্রপতি, একজন জনজাতি উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলাকে যেভাবে কদর্য ভাষায় আক্রমন করেছেন অখিল গিরি, একজন জঙ্গির বোমা বিষ্ফোরণের সমান।” তিনি বলেন, “রাজ্যের স্পিকার করবেন না। কারণ কে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গেছে, সেটাই জানেন না তিনি। কিন্তু রাজ্যপালের সাংবিধানিক ক্ষমতা আছে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে আজ খুব মিস করছি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রাজ্যপালের ভালো সম্পর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে যেভাবে কদর্য ভাষায় একজন মন্ত্রী আক্রমন করলেন, তাঁর কাগজে কলমে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করা যেতেই পারে। সারা বিশ্বে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তাই বসে থাকার সময় নেই।” তিনি বলেন,” জঙ্গিগোষ্ঠীর সদস্য, তোলাবাজ, সিন্ডেকেটবাজ সব তৃণমূলে। তাই তৃণমূল কোনো ব্যবস্থা নেবে। তাই রাজ্যপালের কাছে আর্জি দ্রুত অখিল গিরির বিধায়ক ও মন্ত্রিত্ব পদ খারিজ করে দৃষ্টান্ত তৈরী করুক। এবং সেই দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছি রাজ্যপালকে।”

