সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২০ জানুয়ারি: সোশ্যাল মিডিয়াকে চাঙ্গা করে পুরুলিয়ায় পুর নির্বাচনে সাফল্য আনতে উদ্যোগী হল বিজেপি। আর এই লক্ষ্যেই রাজ্যের প্রথম কোনও জেলায় ‘চলো পাল্টাই’ কর্মসূচি নাম দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে গেরুয়া ব্রিগেড। আজ পুরুলিয়া শহরের দুলমি এলাকায় অবস্থিত জেলা সদর কার্যালয়ে স্থানীয় পুরসভার দলের সোশ্যাল মিডিয়ার কর্মীদের একটি কর্মশালা করে বিজেপি। বঙ্গ বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর পৌরহিত্যে ওই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বস্তুত সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরেই পুরুলিয়ায় বিগত পঞ্চায়েত নির্বাচন, লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্য পায় পুরুলিয়া জেলা বিজেপি। এইকথা একবাক্যে স্বীকারও করেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, “আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে শাসক দলের দুর্নীতি, অনৈতিক কাজের আসল ছবিটা পৌঁছে দিয়েছিলাম। তাই, মানুষ ওদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আর তাই, আসন্ন পুর নির্বাচনে একইভাবে সাফল্য পাব আমরা। সাফল্যের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।”

জেলা বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে বুথ পিছু ১০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ওয়ার্কার রাখা হচ্ছে। তাঁরা ওই বুথে পঞ্চাশজন অ্যানড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের যুক্ত করবেন। সেই অ্যানড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের মাধ্যমে ৫০০ জনের কাছে পৌঁছে যাবে বর্তমান শাসক দলের দুর্নীতি, অনৈতিক কাজ, সরকারি প্রকল্পের টাকা আত্মসাত্ করার কীর্তি। এছাড়া শাসক দলের বোর্ডের এলাকার সমস্যা সমাধান না করার ব্যর্থতা তুলে ধরা হবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। এর মাধমে জনমত তৈরি করতে মূলত কোমর বেঁধে নামছে বিজেপি।
জেলা বিজেপি সভাপতি বিবেক রাঙা জানান, “দলের বুথ স্তরের কার্যকর্তা, ওয়ার্ড প্রমুখ, শক্তিকেন্দ্রের প্রমুখদের মধ্যে যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ার কাজে দক্ষ তাঁদেরই মূলত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নিয়েই আমরা পুরুলিয়া পৌরসভায় আজ এই কর্মশালা করলাম। খুব শীঘ্রই রঘুনাথপুর ও ঝালদা পুরসভাতেও আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার কর্মীদের কর্মশালা করব এবং কৌশল জানিয়ে দেব।”

পুরুলিয়া শহর দক্ষিণ মন্ডলের নেতা সত্যজিত অধিকারি জানান, দলের ‘চলো পাল্টাই’ কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির শাসন ক্ষমতা পালটানোর কথাই জনগণের কাছে পৌঁছাতে চাইছি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ওয়ার্ডে কার্যক্রম শুরু হয়ে গিয়েছে।”
প্রসঙ্গত, জেলার পুরুলিয়া, রঘুনাথপুর এবং ঝালদা পৌরসভা তৃণমূল কংগ্রেসের দখলেই রয়েছে। যদিও এর মেয়াদ শেষ হয়ে যায় দেড় বছর আগেই। বর্তমানে মূলত দলীয় নেতাদের প্রশাসনিক বোর্ডে এবং মাথায় রেখে বকলমে শাসন ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূলই।

