CM, BJP, Shama Prasad, রাজ্যের স্কুল পাঠ্য বইতে যুক্ত হবে শ্যামাপ্রসাদ, বাদ পড়বে সিঙ্গুর আন্দোলন, বললেন মুখ্যমন্ত্রী সহ বিজেপি বিধায়করা

আমাদের ভারত, ৬ জুলাই: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বিদ্যালয় মিত্র ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি জানান, এবার রাজ্যের স্কুলের পাঠ্য বইতে স্থান পাবেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

একদিকে যেমন পশ্চিমবঙ্গের স্কুলের পাঠ্যসূচিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জায়গা পেতে চলেছেন, তেমন অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে হওয়া সিঙ্গুর আন্দোলন প্রসঙ্গ পাঠ্য বই থেকে মুছে যাবে। সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতি বিজড়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের মিত্র ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে এই ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পাঠ্য বইতে অবশ্যই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানের প্রসঙ্গ থাকা উচিত। আর যারা টাটা’কে রাজ্য থেকে তাড়িয়েছেন তাদের নাম থাকা উচিত নয়। আমি স্কুল শিক্ষামন্ত্রী, উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী এবং তাদের সচিবদের এই বিষয়ে অনুরোধ করছি আগামী দিনে যে সিলেবাস কমিটি গঠিত হবে তাদের কাছে আমি এই প্রস্তাব রাখবো। তিনি আরো স্পষ্ট করে দেন, পাঠ্যসূচিতে কী থাকবে তা শেষ পর্যন্ত সিলেবাস কমিটি ঠিক করবে। কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা নয়। তিনি ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবে কেবলই আবেদন টুকু রাখছেন।

মুখ্যমন্ত্রী যখন এই প্রস্তাবের কথা বলছিলেন, তখন তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন এবং উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর স্কুলের পাঠ্য বইতে যুক্ত করা হয়েছিল তার সিঙ্গুর আন্দোলন। সেই আন্দোলনের উল্লেখ পর্বে রয়েছে সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠীর বিতারণ পর্ব।

এবার শ্যামাপ্রসাদের পর্ব যুক্ত করার সঙ্গে সঙ্গে মমতা সিঙ্গুর আন্দোলন বাদ দেওয়া হবে স্কুলের পাঠ্য বই থেকে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগের সরকার এই বিষয়গুলিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা ও অবহেলা করে গিয়েছে। মিত্র ইনস্টিটিউশনের এই ভবনটি একটি হেরিটেজ বিল্ডিং। রাজ্যে হেরিটেজ কমিশন গঠিত হলে আমি ভবনটিকে হেরিটেজের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করব। আগের সরকার হেরিটেজ কমিশন তুলে দিয়েছিল। ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িটি সংরক্ষণের বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাড়িটির মালিকানা বর্তমানে একটি ট্রাস্টের অধীনে রয়েছে। তবে রাজ্য সরকার হুগলির জিরাটে একটি জমি কিনে চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যেখানে শ্যামাপ্রসাদের নামাঙ্কিত একটি আধুনিক লাইব্রেরি এবং গ্রন্থাগার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি বিধায়ক তহবিল থেকে মিত্র ইনস্টিটিউশনের উন্নয়নের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ১৯০৬ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ওই স্কুলের ছাত্র ছিলেন এবং ১৯২৪ থেকে ১৯৩৮ পর্যন্ত স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন, তাই তাঁর এই ১২৫তম জন্ম জয়ন্তীতে স্কুলের প্রতি বর্তমান সরকারের বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত সামগ্রী এবং স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এবং মুখ্য সচিব সহ রাজ্য সরকারের দশ জন প্রতিনিধি এবং সমাজের আরও ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে এই কমিটি তৈরি হয়েছে। এই কমিটির কাজের জন্য রাজ্যের বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এমনকি ঝাড়খণ্ডের মধুপুরে শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতি বিজরিত স্থানটি সংরক্ষণের জন্য আলোচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্ম দিবস উপলক্ষে তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করে মুখ্যমন্ত্রীর ছোট ভাই তথা কাঁথির বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীও দাবি করেছেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কর্মকাণ্ডের ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। অন্যদিকে হুগলির বলাগড়ের জিরাটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈত্রিক ভিটে বাড়িতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের মন্ত্রী সুমনা সরকার। তিনি বলেন, নিশ্চয়ই এটা আমরা আলোচনা করব। মুঘল সাম্রাজ্য আর চলবে না ইতিহাসের পাতায়। এবার ইতিহাসের পাতায় থাকবে সনাতন সাম্রাজ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *