Shamik, BJP, UCC, সংবিধান মেনেই ছাড় আদিবাসীদের, ইউসিসি নিয়ে বিরোধীদের তৈরি বিভ্রান্তি কাটাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট শমীকের

আমাদের ভারত, ২৭ জুন: ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিধানসভা ভোটে বিজেপির জয়ের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার দিকে এগোচ্ছে বলে জানাগেছে। ফলে রাজ্য রাজনীতিতে এই নিয়ে তর্জা শুরু হয়েছে। তারই মধ্যে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য।

ইউসিসি নিয়ে শমীক বাবু সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট ভাবেই নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে বিজেপির অবস্থান বহুদিনের এবং তা অত্যন্ত সুস্পষ্ট। এটা দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অংশ। এখানে কোনো লুকোচুরি বা মুখোশের আড়াল নেই।

পশ্চিমবঙ্গে কেন দেওয়ানি বিধি প্রয়োজন? তার উত্তরে শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের জন্য সমান অধিকার, সমান কর্তব্য নিশ্চিত হওয়া উচিত। বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার কিংবা দত্তক গ্রহণের মত সামাজিক বিষয়গুলিতে ধর্মভিত্তিক আলাদা আলাদা ব্যক্তিগত আইন থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তার বদলে একটি অভিন্ন নাগরিক কাঠামো তৈরি হলে তা দেশের ঐক্য, ন্যায়বিচার ও সাংবিধানিক সমতার আদর্শকে আরো শক্তিশালী করবে।

একই সঙ্গে ব্যক্তিগত আইনে যেখানে বহুবিবাহের সুযোগ রয়েছে। এই আইন কার্যকর হলে ওই ধরনের বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে বলে মনে করেছেন তিনি।

ইউসিসি নিয়ে বিরোধীদের দাবি উড়িয়ে শমীকবাবু স্পষ্ট করে দেন, সন্তান সংখ্যা নির্ধারণ করা কিন্তু এই আইনের কোনো উদ্দেশ্য বা বিধানের অংশ নয়।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এলে আদিবাসী ও তপশিলি জনজাতির নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রাধান্য নষ্ট হয়ে যাবে, বিরোধীদের এই লাগাতার প্রচারকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে শমীক ভট্টাচার্য। সাংবিধানের ধারা উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট জানান, তপশিলি জনজাতি বা শিডিউলড ট্রাইবদের এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬৬ (২৫) এবং অনুচ্ছেদ ৩৪২ অনুযায়ী স্বীকৃত তপশিলী জনজাতি সদস্যরা এই আইনের আওতার বাইরে থাকবেন। তাদের সংবিধান স্বীকৃত প্রথা, রীতি ও বিশেষ অধিকার সম্পূর্ণ সংরক্ষিত থাকবে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর জন্য শুভেন্দু অধিকারী সরকারের পদক্ষেপ করার কথা জানতে পেরেই বিরোধীরা বিরোধিতা শুরু করেছে। বিশেষ করে আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্কের প্রভাবকে কেন্দ্র করে এই চর্চা শুরু হয়েছে। সেই আবহে শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে যেমন সকল নাগরিকের জন্য সমান আইন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ হবে, ঠিক তেমনি সংবিধান প্রদত্ত তপশিলি জনজাতির বিশেষ রক্ষা কবচ যে অক্ষুন্ন রাখা হচ্ছে তা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন পদ্ম শিবিরের শীর্ষ নেতা। শমীক ভট্টাচার্যের কথায় ইউসিসি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো কারণ নেই। সরকার দুটি বিষয়কেই সমান প্রাধান্য ও গুরুত্ব দিয়ে এই আইন লাগুর জন্য পদক্ষেপ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *