পার্থ খাঁড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৮ অক্টোবর: খড়্গপুরে স্কুল পড়ুয়া অক্ষয় কুমার ঝাঁ- এর গুলি লাগার ঘটনায় রহস্যের জট খুলল বলে দাবি পুলিশের। ঘটনায় অক্ষয়ের তিন বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম সাগর কুমার রাও (২৩), কোলা যোগেশ্বর রাও (২৩) এবং বিশাল জানা (২২)। তাদের কাছ থেকে একটি নাইন এমএম পিস্তল এবং তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, খড়্গপুরের এই গুলি চালানোর ঘটনার সঙ্গে কোনও মাফিয়া যোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্রটি নাড়াচাড়া করার সময় অসাবধানতাবশত গুলি বেরিয়ে যায় এবং তাতেই জখম হয় অক্ষয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সাগর কুমার রাওয়ের বাবা প্রসাদ রাও শ্রীনু নাইডু গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। প্রসাদ রাওয়ের মৃত্যুর পর তার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি বাড়িতেই রাখা ছিল বলে পুলিশের দাবি। সেই অস্ত্র দেখতে গিয়ে সাগর ও তার বন্ধুরা সেটি নাড়াচাড়া করছিল। সেই সময়ই অসাবধানতাবশত গুলি বেরিয়ে অক্ষয় কুমার ঝাঁ-র গায়ে লাগে বলে তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকেই তদন্তে নামে খড়্গপুর থানার পুলিশ। গতকাল গুলি চলার ঘটনার পর খড়্গপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশের পাঁচটি দল। তদন্তের সময় সাগরের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা ধরা পড়ে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এরপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একই সঙ্গে গুলি চলার সময় সাগর যাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিল, তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর সাগর- সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনার পিছনে আরও কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছিল এবং সেটি কীভাবে এতদিন বাড়িতে রাখা ছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা স্পষ্ট বার্তা দেন, খড়্গপুরে কোনও ধরনের বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বা অপরাধমূলক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দাবি, খড়্গপুরের কথিত ‘মাফিয়া রাজ’-এর পুরনো পরিস্থিতি আর ফিরতে দেওয়া হবে না। রামবাবু ও শ্রীনু নাইডু গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বাড়িতে প্রয়োজনে অভিযান চালানো হবে এবং শহরে থাকা বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করতে ধারাবাহিক অভিযান চলবে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। নতুন সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা যাতে কোনওভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশ রয়েছে। সেই নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ সবসময় সতর্ক রয়েছে। অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সক্রিয় থাকবে।
খড়্গপুরের এই ঘটনায় তিনজনের গ্রেফতার এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন দিশা মিলেছে বলে মনে করছে পুলিশ। তবে অস্ত্রটির উৎস, ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা জানতে তদন্ত এখনও চলছে।

