আমাদের ভারত, ৯ জুলাই: সরকারি কর্মীদের পদোন্নতি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রাজ্য। পদোন্নতি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের জটিলতা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। এই নির্দেশিকা ক্লার্ক পদের কর্মীদের ইনক্রিমেন্ট ও প্রমোশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় পাস না করলে আটকে যাবে পদোন্নতি।
তবে পদোন্নতি আটকালেও চাকরি বাতিল হবে না বা পদচ্যুতি হবে না। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি কর্মীদের পদোন্নতিতে বেনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরে এই কড়া পদক্ষেপ করলো শুভেন্দু সরকার।
অর্থ দপ্তরের জারি করা নিড়দেশিকায় বলা হয়েছে, কোন মাপকাঠিতে ক্লার্ক স্তরের পদোন্নতি হবে। বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৮ জুলাই পর্যন্ত কম্পিউটার অপারেশন ও টাইপিং পরীক্ষায় পাস করা ছাড়া যারা এলডিসি বা এলডিএ, ইউডিসি বা ইউডিএ সমতুল্য ক্লার্ক পদে ইনক্রিমেন্ট বা পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের পদোন্নতি বিশেষ ক্ষেত্রে বৈধ করা হবে। এই কর্মীদের পদচ্যুত করা হবে না, এবং বর্তমানে যে বেতন পাচ্ছে তাতেও কোনো কাটছাট হবে না। তবে একটি শর্তের উপরে ইনক্রিমেন্ট ও পদোন্নতি নির্ভর করবে। সকলকেই নেতাজি সুভাষ এডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট- এর নির্ধারিত কম্পিউটার অপারেশন এবং টাইপিং পরীক্ষা বাধ্যতামূলক পাস করতে হবে। পরীক্ষায় পাশ না করা পর্যন্ত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত থাকবে বা আটকে যাবে।
বর্তমানে এই কর্মীরা যে যে পদে আছেন সেই পদগুলিকে আপাতত এক্স ক্যাডার পোস্ট হিসেবে ধরা হবে, যাতে অন্যান্য যোগ্য কর্মীদের স্বাভাবিক পদোন্নতির সুযোগ ব্যাহত না হয়। এই নির্দেশিকা জারির পর ভবিষ্যৎ নিয়ম ভেঙে বা কোনো ছাড় বা পদোন্নতি দেওয়া হলে তা সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য করা হবে। এমন কী দরকারে এটা বাতিলও হতে পারে।
২০১৯ ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্ভিসের বিধি জারির পর ৫০ বছর বয়সে পৌঁছালে কম্পিউটার অপারেশন এবং টাইপিং পরীক্ষায় ছাড় দেওয়ার যে ব্যবস্থা ছিল তা বাতিল হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তারপরে অভিযোগ ওঠে নির্দিষ্ট তারিখের পরও বহু কর্মীকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই বেনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই কড়া পদক্ষেপ করল নতুন সরকার।

