সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২২ অক্টোবর: পুলিশের নাকের ডকাতেই একেবারে অভিনব কায়দায় একটি সোনার গয়নার দোকানে ডাকাতি করে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার রাতে বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটি বাজারের আটচালা মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্হানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোকানটি একেবারে গঙ্গাজলঘাঁটি বাজারের মাঝে এবং বাঁকুড়া রানীগঞ্জ ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে। ফলে সারারাত যানবাহন চলাচল করে এবং লোকজনও যাওয়া আসা করে। যাতে দোকানের তালা এবং দরজা ভাঙ্গার সময় কেউ টের না পায় সেই কারণে দুষ্কৃতিরা দোকানের সামনে ত্রিপল ঢাকা দেওয়ার অভিনব কৌশল নিয়েছিল। দোকানের মালিক স্বপন হাইত রানীগঞ্জের বাসিন্দা। গঙ্গাজলঘাঁটিতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে সোনা রূপোর দোকান দিয়েছেন বেশ কয়েক বছর ধরে। তিনি রোজ সকাল ১০ টার সময় বাড়ি থেকে এসে দোকান খোলেন। রাত ৮ টায় দোকান বন্ধ করে বাড়ি যান। ধনতেরাস উপলক্ষে সোনা রূপোর বেশ কিছু অলংকার দোকানে মজুত করেছিলেন। সামনেই থানা, জাতীয় সড়কের পাশে দোকান, ভরা বাজারের মধ্যে এভাবে চুরি হবে এটা কল্পনাও করেননি স্বপনবাবু।

শনিবার সকালে দোকানে চুরির ঘটনার খবর পেয়েই আসেন তিনি। তাকে নিয়ে দোকানের ভিতরে ঢোকে পুলিশ। দেখা যায় আলমারির লকার ভেঙ্গে যা ছিল সবই নিয়ে গেছে দুষ্কৃতিরা। স্বপন হাইত আন্দাজ করতে পারছেন না কত টাকার গয়না নিয়ে গেছে দুষ্কৃতিরা। তিনি বলেন, খুব কম পুঁজি নিয়ে নেমেছিলাম। দোকানের আয় দোকানেই লাগাচ্ছিলাম। তাই এখন কয়েক লাখ টাকার জিনিস ছিল। সবই তো ফাঁকা করে নিয়ে গেছে। দোকানের ভিতরে সিসিটিভি লাগানো আছে। এবার পুলিশ দুষ্কৃতিদের খুঁজে বের করুক। এটাই দাবি তার।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গঙ্গাজলঘাঁটির বাসিন্দারা পুলিশকে ঘিরে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। বেশ কিছুক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সহ এলাকাবাসীরা। গঙ্গাজলঘাঁটি বাজারের ব্যবসায়ী তথা বিজেপির মন্ডল সভাপতি ভাস্কর লাহা বলেন, ঢিল ছোড়া দূরত্বে থানা। রাতে সিভিক ভলান্টিয়ারাও পাহারায় থাকেন। এরপরও চুরি বা ডাকাতি হয় কি করে? তিনি বলেন, এই ঘটনার পর তারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে গঙ্গাজলঘাঁটি থানার পুলিশ সব জায়গায় তল্লাশিও শুরু করেছে।

