আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, সিউড়ি, ১৯ মে: ডবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা হতেই বীরভূমের পাথর শিল্পাঞ্চল থেকে রাজস্ব আদায় বেড়ে দাঁড়ালো তিনগুন। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনটাই জানালেন সিউড়ির নব নির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
তাঁর দাবি, ওই টাকা ১৫ বছর ধরে কোনো এক বেসরকারি সংস্থা আত্মসাৎ করে এসেছে। যার পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা। এর সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থা জড়িত ছিল। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বীরভূমের খাতায় কলমে ২৫০ অবৈধ পাথরভাঙ্গা মেশিন রয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সেই অবৈধ পাথর পাচার রুখতে পূর্বতন সরকার ডি সি আর (ডুপ্লিকেট চালান রিসিট) চালু করে। বীরভূমের মুরারই, নলহাটি, রামপুরহাট, ময়ূরেশ্বর ও মহম্মদবাজার মিলে ৯টি এরকম ডি সি আর চেক গেট রয়েছে। যেগুলিতে এতদিন সরকারি ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি সংস্থা টাকা আদায় করতো। আমরা লক্ষ্য করেছি গতবছরের এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত প্রতিদিন সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা পড়ত ১৯ লক্ষ টাকা। লোকসভা নির্বাচনের পর আমরা এনিয়ে আন্দোলন শুরু করলে নড়েচড়ে বসে তৃণমূল সরকার। এরপর নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে ৭০ লক্ষ টাকা।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন এই দুর্নীতি চলতে দেওয়া যাবে না। এরপর আমরা পুলিশ, পরিবহন, ভূমি রাজস্ব দফতর এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের তদারকিতে ডি সি আর- এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় শুরু করি। সেই ঘোষণা করা হয় প্রকৃত ডি সি আর ছাড়া রাস্তায় পাথর বোঝাই গাড়ি ধরা পড়লে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হবে। না দিলে গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এই নীতি চালু হওয়ার পর প্রথম দিন অর্থাৎ ১৭ মে রাজস্ব আদায় করা হয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। ১৮ মে রাজস্ব আদায় হয় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।
জগন্নাথবাবু বলেন, “আমরা প্রশাসনের কাছে যে হিসাব পেয়েছি তাতে রাজস্ব আদায় প্রতিদিন ৩ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ফলে ১৫ বছর ধরে পূর্বতন সরকার এক ব্যক্তির মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। আগামী ২১ মে রাঢ়বঙ্গের জেলার বিধায়কদের নিয়ে এনিয়ে বৈঠক হবে। আমরা জেলা শাসককে এই দুর্নীতির একটি রিপোর্ট তৈরি করার অনুরোধ করছি। ওই রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করা হবে ১০ হাজার কোটি দুর্নীতির সঙ্গে যারা যারা যুক্ত কাউকে যেন ছাড়া না হয়। আমরা আপতত পাথর নিয়ে শুরু করলাম। আগামী দিনে বালি, কয়লার চোরা চালান নিয়ে সরব হবো।”

