আমাদের ভারত, রামপুরহাট, ২৬ জুলাই: দিন কয়েক আগে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে শ্মশানে আধুনিক বৈদ্যুতিন চুল্লি নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রামপুরহাট বিধানসভার বিধায়ক বিজেপির ধ্রুব সাহা। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্র পালের হাতে আবেদনপত্র জমা দিয়ে কাজ একধাপ এগোল বলে মনে করছেন ধ্রুববাবু। বিধায়কের এই উদ্যোগে খুশি বুংকেশ্বরী মন্দির কমিটি।
বীরভূমের রামপুরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে তিন কিলোমিটার দূরত্বে দেবী বুংকেশ্বরীর মন্দির। ধর্মপ্রাণ মানুষের মতে জাগ্রত অলৌকিক দেবী বুংকেশ্বরী। এই মন্দিরের পশ্চিম মুখে বামাক্ষ্যাপার আসন রয়েছে। কথিত আছে এই আসনে বসেই তন্ত্রসাধনা করেছিলেন বামদেব। বুংকেশ্বরী মন্দিরে তন্ত্রমতে দীক্ষা না হলে পৌরোহিত্য করা যায় না। জনশ্রুতি হল, এই মন্দিরে সাধারণ মানুষ রাত্রিযাপন করতে পারেন না। বিশেষ তিথিতে কৌল- তান্ত্রিকরা এসে এখানে নিশিপূজা করেন।
একটা সময় গাছ গাছালিতে ঢেকে ছিল মন্দির চত্বর। এখনও পর্যন্ত মন্দিরের চারপাশে কোনো জনবস্তি গড়ে ওঠেনি। ফলে আজও অত্যন্ত নিরিবিলি এই জায়গা। প্রতিবছর ১ মাঘ দেবীর বাৎসরিক পুজো হয়। বুংকেশ্বরী তলায় দেবীর পুজো উপলক্ষে মেলা হয়। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই মেলা চলছে। বাসিন্দাদের অনেকে বুংকেশ্বরীর মেলাকে ব্রহ্মদৈত্যর মেলাও বলে থাকেন। এই দেবীর পুজো হয় দিনের বেলায়। বছরের অন্যান্য দিন দেবীর নিত্যপুজো হয়। সাধারণত প্রতি অমাবস্যায় দেবী বুংকেশ্বরীর পুজো হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দিনের বেলাতেই হয় দেবীর আরাধনা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করেন, দেবী বুংকেশ্বরী হলেন শিব- পার্বতীর মিলিত রূপ। তিনি শক্তির দেবী। ভক্তদের বিশ্বাস, শরীরের কোনও অংশ কেটে গেলে দেবীর কাছে প্রার্থনা জানালে সেই মনস্কামনা পূরণ হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী বুংকেশ্বরীর কাছে দুটি প্রাচীন সাপ রয়েছে। দেবীর বিগ্রহের সঙ্গেও দুটি সাপের মূর্তি রয়েছে। এই মন্দিরের সম্পর্কে জনশ্রুতি হলো, প্রতি অমাবস্যায় মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে অন্তত একটি মৃতদেহ সৎকারের জন্য আসবেই। তবে স্থানীয় মানুষজন কিংবা আশেপাশের গ্রামের মানুষ এই শ্মশানেই তাদের প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। ফলে অধিকাংশ দিনেই এই শ্মশানে মৃতদেহ সৎকার করা হয় কাঠের জ্বালানিতে।
মন্দির সংলগ্ন ঝিলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত খাল কোনওদিন শুকিয়ে যায় না। এমনকী, গ্রীষ্মকালেও তাতে জল থাকে। এখনও বহু প্রাচীন কয়েকটি শিমূল ও অন্যান্য গাছে ভরা জঙ্গলের মধ্যে এই শ্মশান। এই শ্মশানের চারদিকে অনেকগুলো বেদি আছে। বিশিষ্টরা তাঁদের আত্মীয়দের দাহ করার পর, এই বেদিগুলো তৈরি করিয়েছেন।
১৯ জুলাই বুংকেশ্বরী মন্দির চত্বরে বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শ্মশানে বৈদ্যুতিন চুল্লি নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা। এছাড়াও এলাকাকে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্র পালের হাতে চুল্লি নির্মাণের আবেদন জমা দিলেন তিনি। ধ্রুববাবু বলেন, “আমরা প্রতিশ্রুতি দিই না। আমরা তার বাস্তব রূপ দিই। আমার সঙ্গে পুর মন্ত্রীর কথা হয়েছে। উনি জানিয়েছেন শীঘ্রই চুল্লি নির্মাণের বিষয়ে প্রশাসনিক ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। চুল্লি নির্মাণ হলে সেটা পরিবেশ বান্ধব হবে”।
মন্দির কমিটির সভাপতি অশোক কারক বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মন্দির চত্বরের উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা হাতের কাছে পেয়ে বিধায়ককে বেশ কিছু দাবি জানিয়েছিলাম। সেই দাবি পূরণ হওয়ার পথে। বৈদ্যুতিন চুল্লির নির্মাণের পথ কিছুটা প্রসস্থ হওয়ায় আমরা খুশি।”

