আমাদের ভারত, ৩০ ডিসেম্বর: রাজ্যের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়োগ অবৈধ। টুইট করে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকর। ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা নিয়ে রাজ্যপাল দাবি করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ বৈধ নয়, কারণ আচার্য হিসেবে তিনি কোনো অনুমোদনই দেননি। এই তালিকায় রয়েছে যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, কলকাতা, কল্যাণীর মত রাজ্যের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলি। রাজ্যপালের এই অভিযোগের পাল্টা দিতে গিয়ে ধনকরকে “পাগলা জগাই” বলে কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী।
রাজ্যপালের অভিযোগ, নিয়মবহির্ভূত ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ হয়েছে অথচ আচার্য হিসেবে তিনি কিছুই জানেন না। রাজ্যপাল প্রশ্ন তুলেছেন, পদাধিকার বলে রাজ্যপাল আচার্য পদে রয়েছেন, কিন্তু তাকে না জানিয়ে কি করে এই মেয়াদ বৃদ্ধি সম্ভব হল?
রাজ্য সরকারের পাল্টা অভিযোগ, রাজ্যপালকে নিয়োগ ও উপাচার্যের মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত নথি পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। দিনের পর দিন তিনি ফাইল আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছে রাজ্য। এভাবে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। তাই বাধ্য হয়েই পদক্ষেপ করেছে রাজ্য।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছিলেন, আচার্য হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীকে অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য বসানো যায় কি না তা রাজ্য সরকার ভাবছে, কারণ রাজ্যপাল রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে অচলাবস্থা তৈরি করতে চাইছেন। এরপর আজ আবার রাজ্যপাল উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে অবৈধতার বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন।
রাজ্যপালের এই অভিযোগের পাল্টা দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও বেনজির আক্রমণ করেছেন। নিজের টুইটার হ্যান্ডেলের সুকুমার রায়ের বিখ্যাত কবিতার পংক্তি পোস্ট করেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সেই ছড়ার পংক্তি গুলিতেই “পাগলা জগাই” এর চরিত্র তুলে ধরেছিলেন কবি। কবিতাটি পোস্ট করে উপরের অংশে ব্রাত্য বসু লিখে দেন “প্রসঙ্গ; অনুমোদন”। আর তাঁর এই পোস্ট থেকে কারো বুঝতে অসুবিধা হয়নি কাকে উদ্দেশ্য করে তিনি এই পোস্টটি করেছেন।

