পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৮ অক্টোবর: শারদোৎসবের আনন্দ, সৃজনশীলতা এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে সম্মান জানাতে রেশমি গ্রুপের উদ্যোগে আয়োজিত হলো ‘শারদ সম্মান ২০২৬’- এর দ্বিতীয় পর্ব। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার দুর্গাপুজো কমিটিগুলির মধ্যে সেরা মণ্ডপ ও সেরা প্রতিমা বিভাগে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানাধিকারীদের পুরস্কৃত করা হয়। পুজো উদ্যোক্তাদের সৃজনশীল ভাবনা, শৈল্পিক উৎকর্ষ এবং নিষ্ঠাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় উৎসবের আবহকে আরও উৎসাহিত করাই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

‘গ্রামের সেরা প্রতিমা’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে মহেশপুর লতিবপুর দুর্গাপুজো সমিতি এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে জগাই দুর্গা উৎসব সমিতি। অন্যদিকে, ‘গ্রামের সেরা মণ্ডপ’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে বরকোলা বুলেট ক্লাব এবং দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে বরকোলা বিদ্যুৎ বাহিনী দুর্গাপুজো কমিটি। প্রথম স্থানাধিকারী কমিটিগুলিকে ১৫,০০০ টাকা করে এবং দ্বিতীয় স্থানাধিকারী কমিটিগুলিকে ১০,০০০ টাকা করে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

বিচারকমণ্ডলীতে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়্গপুরের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ভীমচরণ মেইকাপ, বরকোলা বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রতাপ নারায়ণ পাড়িয়া, ঝাড়গ্রাম আর্ট অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ সঞ্জীব মিত্র এবং শিল্পী তুলি মিত্র ও সৌম্যদীপ দাস। তাঁদের বিচার প্রক্রিয়ায় পুজো মণ্ডপের সাজসজ্জা, প্রতিমার শৈল্পিক সৌন্দর্য, সৃজনশীলতা এবং সামগ্রিক উপস্থাপনার মতো বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
নিজের বক্তব্যে অধ্যাপক ভীমচরণ মেইকাপ বলেন, রেশমি গ্রুপের এই ‘শারদ সম্মান’ পুজো কমিটিগুলিকে আগামী দিনে আরও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। সঞ্জীব মিত্র এবং প্রতাপ নারায়ণ পাড়িয়া শৈল্পিক সৃজনশীলতাকে সম্মান জানানোর জন্য রেশমি গ্রুপের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

রেশমি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ভাস্কর চৌধুরী বলেন, এই পুরস্কার শিল্পী ও পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে এক বিশেষ সম্মান। এর ফলে পুজো কমিটিগুলি আগামী দিনে আরও সুন্দর ও সৃজনশীলভাবে নিজেদের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে উৎসাহিত হবে।
পুরস্কারপ্রাপ্ত পুজো কমিটিগুলির উদ্যোক্তাদের মধ্যে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ। তাঁরা তাঁদের সাফল্যের পিছনে স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, শিল্পীদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, রেশমি গ্রুপের এই উদ্যোগ গ্রামের পুজো কমিটিগুলিকে আগামী দিনে আরও ভালো কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, বড় শহরের পুজোর পাশাপাশি গ্রামীণ দুর্গাপুজোর শৈল্পিক ভাবনা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও যথাযথ সম্মান পাওয়ার যোগ্য।
বিচারকরাও তাঁদের বক্তব্যে তুলে ধরেন যে, দুর্গাপুজো কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি শিল্প, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং সামাজিক সংহতির এক অনন্য প্রকাশ। স্থানীয় প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়ার এই ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে নতুন নতুন ভাবনা ও সৃষ্টির পথ প্রশস্ত করতে পারে।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রেশমি গ্রুপের সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং এলাকার মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। সংস্থার কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (CSR) উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়। শিল্পোন্নয়নের পাশাপাশি সমাজের সার্বিক উন্নয়নেও যে সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, এই ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ তারই প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, রেশমি গ্রুপের ‘শারদ সম্মান ২০২৬, সিজন-২’ শুধুমাত্র একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নয়; এটি গ্রামীণ বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগকে সম্মান জানানোর এক বিশেষ মঞ্চ।

