পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১ সেপ্টেম্বর: মায়ের অকালমৃত্যু, বাবার পুনর্বিবাহ এবং তার পরবর্তী পারিবারিক প্রতিকূলতা, সবকিছুর মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে খড়্গপুরের নিকটবর্তী গোকুলপুর এলাকার সুহিতা রানা। আর্থিক অনটন ও নানা প্রতিকূলতার কারণে সেই স্বপ্ন যখন অনিশ্চয়তার মুখে, তখনই তার পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল রশ্মি গ্রুপ।
২০২০ সালে সুহিতার মা আত্মহত্যা করে মারা যান। পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত মায়ের মামাবাড়ি সারেঙ্গায় আশ্রয় নেয় সে। সেখান থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে ডিপ্লোমা শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে সুহিতা।
সুহিতার মামাদাদু অবিবাহিত। নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি নাতনির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য যথাসাধ্য সহযোগিতা করে আসছিলেন। কিন্তু আর্থিক অনটন এবং ভবিষ্যতে তিনি না থাকলে সুহিতার কী হবে? এই চিন্তা তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছিল।
এই পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে খড়্গপুরের লোকাল থানার উদ্যোগে রশ্মি গ্রুপের কাছে সুহিতার পড়াশোনার জন্য সহায়তার আবেদন জানানো হয়। অসহায় ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে তার ভবিষ্যৎকে এগিয়ে নিয়ে যেতে রশ্মি গ্রুপ দ্রুত সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
রশ্মি গ্রুপের সিএসআর উদ্যোগের মাধ্যমে সুহিতার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতি মাসে ৫,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সকালে লোকাল থানার ওসি এবং রশ্মি গ্রুপের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ৫০০০ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয় সুহিতার হাতে।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে রশ্মির লিগ্যাল হেড তপন নাথ বলেন, সুহিতার এই ৫,০০০ টাকার স্কলারশিপ প্রাপ্তি তার মেধারই স্বীকৃতি। আমি বিশ্বাস করি এই অনুদান তার আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে আমাদের সমাজকে আলোকিত করবেন। সুহিতার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য রশ্মি গ্রুপের পক্ষ থেকে রইল আন্তরিক শুভকামনা।”

এই সহায়তা তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছে সুহিতা। বর্তমানে যে কঠিন আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে তাকে যেতে হচ্ছে, তা তার জীবনযাত্রাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। রশ্মি গ্রুপের এই নিয়মিত সহায়তা তাকে নতুন করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সে।
রশ্মি গ্রুপের এই উদ্যোগের জন্য সুহিতা কৃতজ্ঞতা জানায়। এই সাহায্য তার জীবনে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। একইভাবে সুহিতার মামাদাদুও রশ্মি গ্রুপের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

রশ্মি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিস্টার ভাস্কর চৌধুরী বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই রশ্মি গ্রুপ তার সিএসআর কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের পাশে বারবার, প্রতিবার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে রশ্মি গ্রুপ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।
একটি প্রত্যন্ত এলাকার প্রায় অচেনা জীবনের লড়াই যখন আর্থিক অভাবের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়, তখন সেখানে পৌঁছে শিক্ষার হাতিয়ার তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ রশ্মি গ্রুপের সামাজিক দায়বদ্ধতার এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠল।

