প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ১ জুলাই
ব্যারাকপুর পৌর এলাকার সমস্ত নাগরিকদের ভ্যাকসিন দিতে পারছে না পুরসভা, বিরোধীদের তোলা এই অভিযোগের জবাব দিলেন বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী ও পৌর প্রশাসক উত্তম দাস। তাঁদের বক্তব্য, বিরোধীদের তোলা এই অভিযোগ ঠিক নয়। ভ্যাকসিন যথেষ্ট পরিমাণে আসছে না বলেই সবাইকে টিকা দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজ চক্রবর্তী এবং উত্তম দাস জানিয়েছেন, “চাহিদার তুলনায় ভ্যাকসিন কম আসছে তাই সবাইকে এখন ভ্যাকসিন দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আমরা সব সময় চেষ্টা করছি টিকাকরনকে আরো দ্রুত করার। আর বিরোধীরা সমালোচনা ছেড়ে দিয়ে আসুন আমরা আপনাদের টিকা দিয়ে দেব।”

বিধায়ক রাজ চক্রবর্তীর ও ব্যারাকপুর পৌর সভার উদ্যোগে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়স্ক এবং ৪৫ থেকে আরও অধিক বয়সের নাগরিকদের ভ্যাকসিনেশনের ব্যবস্থা করা হল ব্যারাকপুর সুকান্ত সদনে। সেখানে টিকাপর্ব ঠিক চলছে কী না পরিদর্শন করতে এসেছিলেন রাজ চক্রবর্তী ও উত্তম দাস। সবাইকে টিকা দিতে না পারার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকাকে দোষারোপ করে বলেন, কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভ্যাকসিন আসছে না যার ফলে এই মুহূর্তে সকলকে টিকা দেওয়া যাচ্ছে না। উত্তম দাস বলেন, “কেন্দ্র সরকার সবাইকে টিকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা পাঠাচ্ছেন না। কিন্তু তাও আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করছি টিকা দেওয়ার। আমরা টিকা দেওয়ার সময় কোনও রাজনৈতিক দল দেখছি না, সবাইকেই ভ্যাকসিন দিচ্ছি। ব্যারাকপুরে প্রায় ৩ লক্ষ ভ্যাকসিন দরকার কিন্তু ১৫ % টিকাও পাইনি। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের, পরিবহনের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের , বাজার ব্যবসায়ীদের অর্থাৎ যারা রোজ বাইরে বের হচ্ছেন তাদেরও ভ্যাকসিন দিতে হচ্ছে, ফলে সবাইকে এক বারে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের অভিযোগ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে, তারা ঠিক করে ভ্যাকসিন পাঠালে আমাদের এই অবস্থা হোত না। আমরাও রোজ সবাইকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারতাম।”
রাজ চক্রবর্তী বলেন, “বিরোধীরা ভোটে অনেক খেটেছেন তাই হেরে গিয়ে এসব বলছেন। ব্যারাকপুর পৌর সভা ও আমি নিজেও সরকারের কাছে আবেদন করেছি পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা পাঠানোর জন্য। আসা করছি পর্যাপ্ত পরিমাণে পেলেই আমরা দ্রুত সবাইকে টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারবো। সেক্ষেত্রে কোনও বিরোধীদের টিকা না নেওয়া হয়ে থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে টিকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

