স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২২ জুলাই: রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের ছাত্রী কণা সরকারের তেলে ভাজা বা চপ শিল্প বিষয়ক সমীক্ষামূলক গবেষণা পত্র জমা দেওয়ার পর তা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের শিক্ষা মহলে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় চপ শিল্প নিয়ে ওই ছাত্রীর এই গবেষণায় রীতিমতো নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে সব মহলে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আভ্যন্তরীণ বিষয় কি করে ভাইরাল হয়ে গেল, তা নিয়ে রীতিমতো বিরক্ত রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সঞ্চারী রায় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই ঘটনা একেবারেই অনভিপ্রেত। তার উপরে গবেষণাধর্মী পেপারের যে প্রচ্ছদ ভাইরাল হয়েছে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ব্যবহার করা হয়েছে। যা পুরোপুরি নিয়মবহির্ভূত। এ কাজ যিনি করেছেন, সে দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের আভ্যন্তরিন বিষয়টি কি করে জনসমক্ষে চলে এল তা নিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে ওই বিভাগের শিক্ষক তাপস পালকে। উপাচার্য আরও বলেন, বিদ্যালয়ে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড চলছে। এসব মিটে গেলে এই ব্যাপারে আমরা একটি বৈঠক ডেকে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, চপ শিল্প এবার উঠে এসেছে গবেষণা পত্রে। যার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোলের ছাত্রী কণা সরকার। আদতে তিনি মালদহের গাজলের বাসিন্দা। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডঃ তাপস পালের অধীনে স্নতোকোত্তর স্তরের চতুর্থ সেমিষ্টারের গবেষণা পত্র জমা করেছেন তিনি। কণা সরকার গবেষণা করলেও তাঁর বিষয়বস্তু বেছে দিয়েছিলেন অধ্যাপক তাপস পাল। তাঁর যুক্তি, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চপ শিল্পের কথা বলেছিলেন। এই ক্ষুদ্র খাদ্যশিল্প মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হলেও এর আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান নেই। তাই এই বিষয়টিতে ফোকাস করে রাজ্য তথা জেলার মানচিত্রে চপ শিল্পের পরিসর নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে এই গবেষণায়। যদিও গবেষণা পত্রের প্রচ্ছদে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর নাম তুলে ধরায় কিছুটা হলেও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

