স্বরূপ দত্ত, উত্তর দিনাজপুর, ১ অক্টোবর: বিজেপি ছাড়লেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। আজ নিজের কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এমন ঘোষণা করলেন রায়গঞ্জের বিজেপি বিধায়ক।
তিনি বলেন, “বিজেপি দল মীরজাফরের দল হয়ে গেছে। এত কাজ করার পরেও আমাকে দলবিরোধী কার্যকলাপের কারন দেখিয়ে শোকজ করেছে। তাই আমি শোকজের কোনও উত্তর না দিয়ে বিজেপি দলই ছাড়লাম।”
বিজেপি দল ত্যাগ করলেও এখনই কোনও রাজনৈতিক দলে যুক্ত হচ্ছেন কিনা তা খোলসা করে বলেননি কৃষ্ণ কল্যানী। তবে এর আগেই রাজ্য তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে যোগাযোগ করেছেন বলে সূত্রের খবর।
রায়গঞ্জের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী এবং রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীর সাথে দ্বন্দ্ব সর্বজনবিদিত। এছাড়াও বিজেপির জেলা সভাপতি বাসুদেব সরকারকে নিয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলায় বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ছিল চরমে। মাস খানেক আগেই উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপির সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী। নিজের বিধায়কের অফিস থেকে কদিন আগে সরিয়ে দিয়েছেন বিজেপির রায়গঞ্জের সাংসদ থেকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ছবি।
কৃষ্ণ কল্যানীর অভিযোগ, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে বহুবার জেলা বিজেপি যে তাঁর সাথে কোনও যোগাযোগ করছে না তা জানিয়েছিলেন। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্য নেতৃত্বকে সময় দিয়েছিলেন কৃষ্ণবাবু। তাঁর অভিযোগের কোনও গুরুত্ব না দিয়ে পাল্টা তাঁকেই শোকজ করেছেন রাজ্য সহ সভাপতি প্রতাপ ব্যানার্জি। চরম অপমানিত হয়ে বিজেপি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং রায়গঞ্জের বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীকে মীরজাফর আখ্যা দিয়ে বিজেপি দল ছাড়ার কথা ঘোষনা করলেন।
তবে এখন তিনি কোন দলে যাবেন তা সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরী বলেন, কৃষ্ণ কল্যাণী দল ছাড়াতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। কৃষ্ণ কল্যাণী শুধুমাত্র টিকিট পাওয়ার জন্যই বিজেপি দলে এসেছিল এবং বিধায়ক হয়ে ঐদিনই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিলেন, যেদিন ভারতীয় জনতা পার্টি পশ্চিমবঙ্গের সরকার গঠন করতে পারেনি।

